সির কীয়ার স্টারমার শনিবার যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগকে পুনর্বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা ব্যবসা, ব্রাসেলস এবং ইউরোপের অন্যান্য রাজধানীর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি ইউকে-ইইউ চুক্তির এই বছরের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার বাইরে গিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বার্ষিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এই পদক্ষেপটি ইউরোপের সঙ্গে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্রেক্সিট রিসেটের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান অবস্থায় সরকার কাস্টমস ইউনিয়নের পরিবর্তে একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেছে।
লেবার পার্টির কিছু ব্যাকবেঞ্চার, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের গত বছর পার্লামেন্টে চালু করা অ-বাধ্যতামূলক ভোটের পর এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই সমর্থনটি পার্টির অভ্যন্তরে ইউরোপীয় নীতি পুনর্মূল্যায়নের একটি প্রবণতা নির্দেশ করে।
স্টারমার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে একক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা কাস্টমস ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার চেয়ে বেশি উপযোগী, এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তিনি বলেন, একক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে বাণিজ্যিক বাধা কমে এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধা বাড়বে।
ব্রেক্সিট রিসেটের অংশ হিসেবে স্টারমার ইউরোপীয় নিয়মের সঙ্গে তিনটি মূল ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রস্তাব করেন: খাদ্য ও কৃষি রপ্তানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নির্গমন ট্রেডিং। এই সমন্বয়গুলোকে বাস্তবায়ন করলে ইউরোপীয় বাজারে পণ্য ও সেবার প্রবাহ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসার সময়, তখনকার প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসনের চুক্তি ইউরোপীয় নিয়ম থেকে স্বাধীনতা জোরদার করেছিল, তবে ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মসৃণ বাণিজ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। স্টারমারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এই সীমাবদ্ধতাকে দূর করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
ব্রিটিশ চেম্বারস অফ কমার্সের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯৮৯টি ব্যবসা সদস্যের বেশিরভাগই যুক্তরাজ্য-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি বিক্রয় বৃদ্ধিতে সহায়ক নয় বলে মত প্রকাশ করেছে। এই ফলাফলটি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পোস্ট-ব্রেক্সিটের জটিলতা ও লাল টেপের কারণে রপ্তানি ও আমদানি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা ব্যবসার বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্টারমার সরকার অতিরিক্ত সেক্টরে সমন্বয় ও সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বার্ষিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে পারবে। এই প্রক্রিয়া কাস্টমস ইউনিয়নের পুনরায় যোগদানের প্রশ্নকে সরাসরি না করে, একক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেবে।
এই নীতি পরিবর্তনটি ব্যবসা সম্প্রদায়কে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ প্রদান করতে পারে, পাশাপাশি ব্রাসেলসকে যুক্তরাজ্যের ইচ্ছা স্পষ্ট করে জানাবে যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখতে পার্টি পরিবর্তন করা হবে না।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, স্টারমারের এই পদক্ষেপটি লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ইউরোপীয় নীতি নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে কাস্টমস ইউনিয়নের পুনরায় যোগদানের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে। তবে একই সঙ্গে এটি পার্টির বাণিজ্যিক নীতি সমৃদ্ধ করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে, যদি এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সফল হয়, তবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্গঠন ঘটতে পারে, যা উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সমন্বিত করবে এবং পোস্ট-ব্রেক্সিটের জটিলতা কমিয়ে আনবে। এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং বাস্তবায়ন ধাপগুলো পরবর্তী মাসে আরও স্পষ্ট হবে।



