দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আপিলের শুনানি ১০ জানুয়ারি থেকে চালু হবে, যা ঢাকা শহরের আগারগাঁওতে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের বেসমেন্ট‑২-এ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের আইন শাখা‑২-এ সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুর রহমানের স্বাক্ষরিত নোটিশে এই তারিখ ও স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আপিলের মূল উদ্দেশ্য হল রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রার্থিতা বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ প্রদান করা।
নোটিশে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করা যাবে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আর কোনো আপিল গ্রহণ করা হবে না, ফলে প্রার্থীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আবেদনকারীকে লিখিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংযুক্ত করে নির্ধারিত স্থানে জমা দিতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে নির্বাচন কমিশন দেশকে দশটি অঞ্চলে ভাগ করে আঞ্চলিক বুথ স্থাপন করেছে। প্রতিটি অঞ্চলের নির্দিষ্ট বুথে প্রার্থীরা তাদের আপিল ফরম জমা দিতে পারবেন, যা কেন্দ্রীয় অফিসে সরাসরি জমা দেওয়ার তুলনায় সময় ও ভ্রমণ খরচ কমাবে। বুথগুলোর ঠিকানা ও সময়সূচি নোটিশে উল্লেখিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জন্য তা সহজলভ্য করা হয়েছে।
শুনানির সূচনা প্রতিদিন সকাল দশটায় হবে এবং প্রতিটি আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। রিটার্নিং অফিসার, তার প্রতিনিধি অথবা আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শুনানি চলাকালীন কোনো দিক থেকে বাধা না আসে। শুনানির সময় আদালতের মতোই ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়ের একটি কপি মনিটরে প্রদর্শিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ই-মেইলে পিডিএফ ফরম্যাটে পাঠানো হবে। এছাড়া, রায়ের কাগজের কপি সংগ্রহের জন্য নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্কে নির্ধারিত সময়ে সেবা প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে আপিলকারী রায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে পারে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তা ব্যবহার করতে পারে।
নিয়মিতভাবে আপিলের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাখে। যদি আবেদনপত্রের পরিমাণ বেশি হয় বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে শুনানির সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত জানানো হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা প্রতিনিধির জন্য অপ্রয়োজনীয় অসুবিধা না হয়।
এই শুনানি প্রক্রিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তে আপিলের সুযোগ না থাকলে নির্বাচনী তালিকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রার্থী বাদ পড়তে পারে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করে। তাই আপিলের সুষ্ঠু পরিচালনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে এই শুনানির ফলাফলকে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। যদি কোনো বড় পার্টির প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তা নির্বাচনী জোট গঠন ও ভোটার ভিত্তি পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, আপিল প্রত্যাখ্যান হলে সংশ্লিষ্ট দলকে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত করতে হবে, যা নির্বাচনী প্রচারণার সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রার্থীদের আইনি অধিকার রক্ষা করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের সময় সকল পক্ষের সহযোগিতা ও সময়মত উপস্থিতি প্রয়োজন, যাতে শুনানি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের আপিল প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সংক্ষেপে, ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রার্থিতা বাতিলের আপিল শুনানি আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ে এবং নির্ধারিত বুথে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন, এবং রায়ের কপি মনিটরে ও ই-মেইলে পাওয়া যাবে। সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যায়।



