নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের কাসুয়ান-দাজি গ্রামে শনিবার রাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী আক্রমণ করে, কমপক্ষে ত্রিশজনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আক্রমণকারীরা বনভূমি থেকে গিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে, দোকানপাট লুট করে এবং কিছু লোককে অপহরণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, আক্রমণকারীরা অস্ত্রধারী হয়ে গ্রামবাসীদের ঘিরে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি গুলিতে নিহত হয়েছে, আর অন্যদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। বাজারে আগুন লাগার ফলে বহু বিক্রয়স্থল ধ্বংস হয়েছে এবং গ্রামবাসীরা আতঙ্কে পালিয়ে গিয়েছেন।
নাইজার রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে গ্রামবাসীরা গুলিবিদ্ধ হয়ে গেছেন এবং কিছু লোককে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামবাসীরা এখন নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ভীত এবং কেউই বাইরে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ তারা ভয় পাচ্ছেন যে কথাবার্তা শোনার পর আবার একই রকম আক্রমণ হতে পারে।
রাজ্য পুলিশ স্পিকারও জানিয়েছেন যে জরুরি দল গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা ও উদ্ধার কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে অপহৃতদের মুক্তি ও অবশিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীর সন্ধানে কাজ করছে। সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং তাদের থেকে মুক্তিপণ চাওয়া বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে, যদিও বাস্তবে র্যানসমের অর্থ প্রদান কখনো কখনো উপেক্ষা করা হয়।
আক্রমণের সময় গ্রামে কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষের কারণ হয়েছে। তারা সরকারের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে পূর্বে অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা শোনা যেত, কিন্তু এখন তা তাদের নিজস্ব গ্রামেও ঘটছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, তারা তাদের জন্মভূমি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, কারণ তারা নিজেকে “মুরগির মতো” মরতে দেখছে এবং সরকারের প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে। তারা দাবি করছেন, সরকার ঘটনাগুলো জানলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ফলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিজেদের রক্ষা করবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই হামলা ঘটার ঠিক এক দিন আগে নাইজার রাজ্য সরকার স্কুলের ধাপে ধাপে পুনরায় খোলার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ব্যান্ডিট নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত এই ধরনের আক্রমণ ও অপহরণ নাইজেরিয়ায় বহু বছর ধরে চলমান, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। সরকার এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তবে বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
অধিক তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।



