রবিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক ও শিল্প উদ্যোক্তারা একত্রিত হন। তারা ব্যবসা‑বাণিজ্যে বিদ্যমান সমস্যার তালিকা উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা অবস্থা, শিল্পখাতে গ্যাস‑বিদ্যুৎ সংকট এবং আমলাতান্ত্রিক বাধা অন্তর্ভুক্ত। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে পদক্ষেপের আশ্বাস চেয়ে ছিলেন।
বৈঠকের সূচনায় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা দেখা দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের ফলে কারখানাগুলো বন্ধ হতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া, কিছু শিল্পখাতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এইসব বিষয়ের ওপর আলোচনা শেষে, তারেক রহমান উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতাদের আশ্বাস দেন যে, যদি তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ব্যবসায়িক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তার এই প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলী হোসেইন আকবর আলী, এফবিসিআইএর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি. রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, পারটেক্স গ্রুপের আজিজ আল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, বিএবির সভাপতি আবদুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক এবং বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চ।
বৈঠকের সময় ব্যবসায়িক নেতারা একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং সমন্বিতভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন। তারা উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি প্রণয়নে শিল্পখাতের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে। এছাড়া, তারা আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে ব্যবসায়িক সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন। তারেক রহমানের এই আশ্বাসের ফলে ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও শিল্প উন্নয়নের দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈঠকের সমাপ্তিতে, উপস্থিত সবাই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত সমন্বয় সভা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, এমন সংলাপের মাধ্যমে ব্যবসা‑বাণিজ্যের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে। এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে আলোচনার মঞ্চ পেয়েছে।



