ডেনমার্কের দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবারের রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপ-প্রধান স্টাফের স্ত্রীর একটি টুইটের পর দেশটির ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আমেরিকাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কেটি মিলার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফের স্ত্রী, গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রকে মার্কিন পতাকার রঙে রঙিন করে “SOON” শব্দসহ তার X (পূর্বের টুইটার) প্রোফাইলে প্রকাশ করেন।
ডেনমার্কের যুক্তরাষ্ট্রের দূত জেসপার মোলার সোরেনসেন এই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে দু’টি বার্তা যুক্ত করেন: প্রথমে তিনি দু’টি দেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ডেনমার্কের নিরাপত্তার পারস্পরিক সংযোগের ওপর জোর দেন।
ট্রাম্পের শাসনকালে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে নেওয়ার সম্ভাবনা বারবার উত্থাপিত হয়েছে, তার কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা উল্লেখ করে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ envoy নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
সোরেনসেনের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে বজায় রাখা উভয়ের স্বার্থে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, এবং গ্রিনল্যান্ড ইতিমধ্যে ন্যাটো গঠনের অংশ, এ বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডেনমার্কের নিরাপত্তা নীতি অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১৩.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০.২ বিলিয়ন পাউন্ড) হয়েছে, যা আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে। এই আর্থিক বৃদ্ধি দেশের যৌথ নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
দূত সোরেনসেন স্পষ্টভাবে ডেনমার্কের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতার পূর্ণ সম্মান দাবি করেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই নীতি মেনে চলতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আশা করি ডেনমার্কের রাজ্যসীমা সম্পূর্ণভাবে সম্মানিত হবে।” এই আহ্বানটি কেটি মিলারের টুইটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা ডেনমার্কের সরকারকে উদ্বিগ্ন করেছে।
ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় একটি বড় সামরিক অভিযান চালায়, যেখানে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এই কার্যক্রমের পর ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার শাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন এবং আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন লাভের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত মন্তব্যের পাশাপাশি, তিনি পূর্বে গ্রিনল্যান্ডের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ না দিয়ে বলেছিলেন যে, প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করে এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই রকম প্রকাশনা ডেনমার্কের জন্য অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ, কারণ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অংশ এবং ন্যাটো গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডেনমার্কের দূতাবাসের এই স্মরণীয় বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ডেনমার্কের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এই বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা কীভাবে বিকশিত হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডিক অবস্থান কীভাবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রক্ষা পাবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে রয়ে যাবে।



