ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রবিরোধী বৈষম্য (SAD) সভাপতি রিফাত রশিদ উল্লেখ করেন, জুলাই মাসের ব্যাপক প্রতিবাদে নিহত ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তালিকায় বিভিন্ন থানা-অফিসারের (OC), পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (SP) এবং উচ্চতর কমান্ডিং অফিসারদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাদের অধীনে ঘটনার সময় গুলিবর্ষণ ও অন্যান্য হিংসা ঘটেছে।
রিফাত রশিদ জানান, প্রস্তুত তালিকাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)‑এ উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্মেলনে তিনি হাবিগঞ্জ ইউনিটের সদস্য সচিব মাহদি হাসানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তোলেন। মাহদি শায়েস্তাগঞ্জ থানা-অফিসারের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার পর শনিবার পুলিশ গ্রেফতার করে, তবে রবিবার তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
মাহদির মুক্তি নিয়ে রিফাত রশিদ জোর দেন, “আমরা শুধুমাত্র জামিন নয়, সম্পূর্ণ মুক্তি এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানা-অফিসারের পদত্যাগ চাই।” তিনি উল্লেখ করেন, এই দাবি পূরণ না হলে প্রতিবাদে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
SAD এছাড়াও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি আদেশ জারি করার দাবি করে, যাতে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সকল কার্যক্রমকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়।
এই আদেশের মাধ্যমে উক্ত সময়কালে সংঘটিত কোনো অপরাধের জন্য দায়ী করা যাবে না, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর কোনো আইনি প্রক্রিয়া আরোপ করা যাবে না বলে স্পষ্ট করা হবে।
প্ল্যাটফর্মটি সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পারামিলিটারি ও সিভিল প্রশাসনের সেই কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি চায়, যারা জুলাই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা দাবি করে, এইসব কর্মকর্তাদের অবদান সরকারীভাবে স্বীকৃত ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে।
এছাড়াও, এই ব্যক্তিদের কর্মস্থলে হয়রানি রোধে একটি স্থায়ী কমিশনের গঠন প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা চাপের মুখে না পড়ে।
SAD আরও দাবি করে, উল্লিখিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হোক, যাতে তাদের অবদানকে যথাযথভাবে সম্মানিত করা যায়।
রিফাত রশিদ উল্লেখ করেন, তালিকা ও দাবিগুলি আইসিটি‑তে জমা দেওয়ার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে উক্ত সময়ের ঘটনাগুলোর দায়িত্বশীলদের ওপর আইনি দায়বদ্ধতা আরোপিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।



