রিয়াল মাদ্রিদ রবিবার সন্ধ্যায় সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে রিয়াল বেটিসের বিরুদ্ধে ৫-১ স্কোরে জয়লাভ করে, ফলে লা লিগের শীর্ষস্থানীয় বার্সেলোনার থেকে চার পয়েন্টের ব্যবধান কমে যায়। গার্সিয়া, যিনি কিলিয়ান এমবাপে’র আঘাতজনিত অনুপস্থিতি পূরণে মাঠে নামেন, প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে দলের প্রথম গোল করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে আরেকটি চমৎকার ভলিতে স্কোর বাড়িয়ে দেন। ৮৩ মিনিটে গার্সিয়া তৃতীয় গোলের মাধ্যমে হ্যাট্রিক সম্পন্ন করেন, আর শেষ মুহূর্তে ফ্রান গার্সিয়া পঞ্চম গোলের যোগ করেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে গার্সিয়া রোড্রিগোর ফ্রি-কিক থেকে লুপিং হেডার দিয়ে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করেন, যা কোচ জাবি আলোনসোর কৌশলগত পরিবর্তনের ফল। বেটিসের সুকো হের্নান্দেজ একবার গোল করে দলের একমাত্র স্কোর যোগ করেন, তবে রাউল আসেন্সিও রোড্রিগোর কর্নার থেকে হেডার দিয়ে তৃতীয় গোলের মাধ্যমে মাদ্রিদের সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে গার্সি ফেডে ভ্যালভার্দের লম্বা পাসকে বুকে নিয়ন্ত্রণ করে, বক্সের প্রান্ত থেকে ভলিতে গড়িয়ে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এই গোলটি দলকে দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি স্বস্তি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ৫-১ পার্থক্য বজায় রাখে। গার্সিয়ার এই পারফরম্যান্স তাকে দলের তরুণ একাডেমি পণ্য হিসেবে পুনরায় উজ্জ্বল করে তুলেছে, যদিও এই মৌসুমে তার সুযোগ সীমিত ছিল।
মাদ্রিদ গার্ডিয়ান থিবাউট কুরোইস পুরো ম্যাচে শূন্য গোলের রেকর্ড বজায় রাখেন, বেটিসের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি কোনো শটই থামাতে পারেননি। দলের রক্ষণাত্মক রূপে কুরোইসের দৃঢ় পারফরম্যান্স এবং গার্সিয়ার আক্রমণাত্মক দক্ষতা মিলে মাদ্রিদকে বড় সুবিধা দেয়।
কিলিয়ান এমবাপে’র আঘাতের ফলে দলকে শীর্ষ গোলদাতার অভাব দেখা দিয়েছিল, তবে আলোনসোর সিদ্ধান্তে ২১ বছর বয়সী গার্সিয়া তার জায়গা নেন। গার্সিয়া পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে তার পারফরম্যান্স দিয়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন, এবং এই ম্যাচে তার দক্ষতা পুনরায় প্রমাণিত হয়। আলোনসো, যাকে ২০২৬ পর্যন্ত কোচিং চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে, এই জয়ের মাধ্যমে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দলের অনিয়মিত ফলাফলের কারণে তাকে বরখাস্তের ঝুঁকিতে দেখা হয়েছিল।
বার্সেলোনা, লা লিগের শীর্ষে অবস্থান করে, শনিবার স্প্যানিশ ডার্বি-তে এস্পানিয়লকে ২-০ স্কোরে পরাজিত করে চার পয়েন্টের ব্যবধান বজায় রেখেছে। মাদ্রিদের এই জয়টি বার্সেলোনার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখন দু’দলই শীর্ষে সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পরবর্তী ম্যাচে মাদ্রিদের লক্ষ্য হবে শীর্ষস্থানীয় দলের সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিরোপা শিরোনাম জয়ের পথে অগ্রসর হওয়া।
ম্যাচের পর কোচ আলোনসো দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং গার্সিয়ার হ্যাট্রিককে দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গার্সিয়ার তরুণ শক্তি এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে। এছাড়া, কুরোইসের নিরাপদ গার্ডিং এবং রোড্রিগোর সৃজনশীল পাসিংও দলের জয়ের মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, রিয়াল মাদ্রিদের এই জয়টি লা লিগের শীর্ষে থাকা দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং গার্সিয়ার হ্যাট্রিক দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডে মাদ্রিদের লক্ষ্য হবে ধারাবাহিক জয় অর্জন করে শিরোপা শিরোনাম জয়ের পথে অগ্রসর হওয়া, আর বার্সেলোনা তাদের শীর্ষস্থান বজায় রাখতে আরও কঠোর প্রচেষ্টা চালাবে।



