ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে পরিচালিত মার্কিন বিশেষ অভিযান চলাকালে তার নিরাপত্তা দলের একটি বিশাল অংশ প্রাণ হারিয়েছে, তা দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই তথ্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো টেলিভিশনে জানান, মার্কিন কমান্ডো বাহিনীর পরিচালিত এই অপারেশনে মাদুরোর নিরাপত্তা দলের বেশিরভাগ সদস্য নিহত হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ করা হয়নি।
পাদ্রিনো উল্লেখ করেন, এই অভিযানটি পরিকল্পিত এবং আকস্মিক উভয়ই ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি তুলে নেওয়া। তিনি এটিকে একটি সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা পূর্বে কোনো অনুমোদন ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, পাদ্রিনো ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাকেও সমর্থন জানান। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপটি সংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং শূন্যতা এড়াতে জরুরি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুক্তি দেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় দিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা হবে।
পাদ্রিনো জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্ত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কৌশলগত স্থানে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপের পেছনে সরকার যে কোনো ধরনের ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। ফলে সরকার ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের শান্ত থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ার ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বাড়তে পারে।
অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে সরকার কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



