লস এঞ্জেলেসের একটি ভাড়া বাড়িতে মিকি রৌরকে (বয়স ৭৩) সম্প্রতি ত্রিশ দিনের একটি ইভিকশন নোটিশ পেয়েছেন। বাড়ি হারানোর ঝুঁকির মুখে তিনি গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহের ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হল বকেয়া ভাড়া ও জরুরি বাসস্থানের খরচ মেটাতে প্রায় ৫৯,১০০ ডলার সংগ্রহ করা।
ক্যাম্পেইনটি রবিবারের প্রভাতে রৌরকের পূর্ণ অনুমতিতে শুরু হয় এবং “Support Mickey to Prevent Eviction” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। গোফান্ডমি পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে রৌরকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা তাকে বাড়ি ছাড়ার প্রান্তে নিয়ে এসেছে, এবং তহবিলের মাধ্যমে তিনি তাত্ক্ষণিক বাসস্থান সংক্রান্ত খরচ মেটাতে পারবেন।
এই তহবিল সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল রৌরকের বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা। তহবিলের কোনো সীমা নির্ধারিত নয়; ছোট দানও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
ক্যাম্পেইনটি লিয়া-জোয়েল জোন্সের তত্ত্বাবধানে চলছে, যিনি রৌরকের বন্ধু এবং তার ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য। জোন্সের মতে, রৌরকের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন এবং বহু ভক্তের সমর্থন তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
রৌরকে ১৮ ডিসেম্বর ত্রিশ দিনের ইভিকশন নোটিশ পেয়েছিলেন, যা লস এঞ্জেলেস টাইমসের রিপোর্টে উল্লেখিত। তিনি মার্চ ২০২৫-এ বাড়ির লিজে সই করেন, তখন মাসিক ভাড়া ছিল ৫,২০০ ডলার, যা পরে ৭,০০০ ডলারে বৃদ্ধি পায়।
বাড়িটি তিন শোবার ঘর ও দুই বাথরুমবিশিষ্ট একটি স্প্যানিশ বাঙ্গালো, যা ১৯২৬ সালে নির্মিত। জিলোয়ের তালিকায় বাড়িটিকে “সুন্দরভাবে আপগ্রেড করা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক দিক থেকে, রেমন্ড চ্যান্ডলার ১৯৪০-এর দশকে দুই বছর এই বাড়িতে বসবাস করতেন।
মিকি রৌরকের ক্যারিয়ার ১৯৮০-এর দশকে শুরু হয়, যখন তিনি হলিউডের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার কাজ ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী ভক্তদের হৃদয় জয় করেছেন।
বছরের পর বছর ধরে রৌরকের নাম চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তবে সাম্প্রতিক আর্থিক সমস্যার ফলে তিনি এই তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে তার বাসস্থানের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে চান।
গোফান্ডমি পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভাড়া পরিশোধ নয়, বরং রৌরকের মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তহবিলের মাধ্যমে তিনি আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।
এই ক্যাম্পেইনটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভক্ত ও সমর্থকরা দান করার পাশাপাশি রৌরকের জন্য শুভকামনা জানিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্ট শেয়ার করছেন।
গোফান্ডমি পৃষ্ঠায় তহবিলের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে আপডেট করা হয়, যাতে দাতারা তাদের অবদান কতটুকু সাহায্য করেছে তা দেখতে পারেন। তহবিলের লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
রৌরকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও, তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে তিনি তার বাসস্থান রক্ষা করে আর্থিক পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করতে চান। এই উদ্যোগটি তার ভক্তদের সমর্থন ও সহানুভূতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



