রোববার, ৪ জানুয়ারি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। এনবিআরের সভাপতি আবদুর রহমান খান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের কার্যক্রমের গুরুত্ব ও লক্ষ্য তুলে ধরেন।
এনবিআর এই পদক্ষেপটি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ) নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে গ্রহণ করেছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এসওসির প্রধান কাজ হল অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডেটা (এএসিকিউডা) এর অবকাঠামো রক্ষা করা। এএসিকিউডা হল কাস্টমস বিভাগে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা, যার নিরাপত্তা দুর্বল হলে জাতীয় রাজস্ব ও বাণিজ্যিক তথ্য বিপন্ন হতে পারে।
কেন্দ্রটি একটি বিশেষায়িত দল দ্বারা পরিচালিত হবে, যারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করবে। দলটির সদস্যরা সাইবার নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং হুমকি বিশ্লেষণে প্রশিক্ষিত, ফলে তারা দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্ভাব্য আক্রমণ শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
এসওসির মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার পরিবেশে ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালু হবে। অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত হুমকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম বা সিস্টেমের দুর্বলতা সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়া ডেটা লিক, সেবা ব্যাহত বা আর্থিক ক্ষতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন পর্যন্ত ব্যাংক ও আইটি সংস্থাগুলো ডেটা সুরক্ষার জন্য এসওসির ওপর নির্ভরশীল। এনবিআর উল্লেখ করেছে যে, এই কেন্দ্রের সংযোজন কাস্টমস বিভাগের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রযুক্তি সেক্টরের সাইবার হুমকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যোগ করবে।
সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানদণ্ডের অনুসরণ এনবিআরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে। এসওসির প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, রিয়েল-টাইম অ্যানোমালি ডিটেকশন এবং স্বয়ংক্রিয় ইনসিডেন্ট রেসপন্স সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান একত্রে সাইবার আক্রমণের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগের ফলে কাস্টমস বিভাগের তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী রাজস্বের সঠিক হিসাব-নিকাশ এবং বাণিজ্যিক ডেটার অখণ্ডতা বজায় রাখতে সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো অপরিহার্য, এবং এসওসি সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ছিল, কিন্তু একক কেন্দ্রের মাধ্যমে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া সম্ভব হবে। ফলে ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণে জনগণের আস্থা বাড়বে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে। এসওসির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং প্রযুক্তিগত আপডেট নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপের পরিকল্পনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার প্রতিষ্ঠা দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যাবে, যা কাস্টমস ডেটা, ব্যাংকিং সিস্টেম এবং আইটি সেবা সমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রদান করবে।



