সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারাভিযানের প্রথম অনুষ্ঠান কুমিল্লা জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আগামী সোমবার, ৫ জানুয়ারি, সকাল ১১ টায় জেলাভিত্তিক স্তরে শুরু হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। মজুমদার উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, ভোটারদের মধ্যে গণভোট ও রেফারেন্ডাম ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই ধরনের মোবাইল ক্যাম্পেইন অত্যন্ত কার্যকর।
‘ভোটের গাড়ি’ প্রকল্পটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চালু করা হয়েছে। গাড়িতে নির্বাচনী তথ্য, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ভোটের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর শিক্ষামূলক উপকরণ ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা থাকবে। গাড়িটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ঘুরে ভোটারদের সরাসরি তথ্য সরবরাহ করবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা গড়ে ওঠে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক নেতা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, ভোটার সচেতনতা বাড়াতে সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসা করেছেন। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্য সরবরাহের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না থাকা উচিত এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার। এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় উপস্থিত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রত্যেক জেলা থেকে উপদেষ্টা গাড়ির সঙ্গে মিলিত হয়ে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন এবং প্রশ্নোত্তর সেশন পরিচালনা করবেন। এভাবে তথ্যের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করে ভোটারদের মধ্যে ভুল ধারণা দূর করা হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের দপ্তরও এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা গাড়ির রুট নির্ধারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মিডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গাড়ি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে চলবে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে।
প্রচারাভিযানের সময় গাড়িতে নির্বাচনী স্লোগান, পোস্টার, প্যানেল ও অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণ থাকবে। এসব উপকরণ ভোটারদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় তৈরি করা হয়েছে, যাতে গ্রাম্য ও নগরীভূক্ত সকল ভোটার সহজে বুঝতে পারে। এছাড়া গাড়িতে ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রের তথ্যও প্রদান করা হবে, যাতে নতুন ভোটাররা দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।
এই ধরনের মোবাইল ক্যাম্পেইন পূর্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফলভাবে চালু হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সরাসরি জনগণের সঙ্গে মুখোমুখি যোগাযোগ ভোটারদের মধ্যে তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং ভোটার অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি করে। কুমিল্লা জেলায়ও একই রকম ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা গাড়ির কার্যক্রমের গুরুত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করবেন। তারা জোর দিয়ে বলবেন, ভোটার সচেতনতা শুধুমাত্র একবারের ক্যাম্পেইন নয়, বরং ধারাবাহিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা উচিত। এভাবে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।
প্রচারণার পরবর্তী ধাপে গাড়িটি দেশের অন্যান্য জেলায়ও ঘুরবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়ি কমপক্ষে দুই মাসের জন্য চলবে এবং প্রতিটি জেলা থেকে নির্ধারিত সংখ্যক থামার পরে পরবর্তী স্থানে যাবে। এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে যে, ভোটারদের কাছে নির্বাচনী তথ্য সর্বদা আপডেটেড থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্যোগটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়িয়ে, নির্বাচনী ফলাফলকে আরও বৈধ ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে। এই প্রচারণা সফল হলে, ভবিষ্যতে অনুরূপ উদ্যোগগুলোকে আরও বিস্তৃত করে দেশের সব কোণায় পৌঁছানো যাবে।



