ইলেকশন কমিশন ৩০টি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নামজারি পর্যালোচনা শেষ করে আজ ঘোষণা করেছে যে ১,৮৪২ প্রার্থীর আবেদন স্বীকৃত এবং বাকি ৭২৩ প্রার্থীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের কঠোর পর্যালোচনা শেষে নেওয়া হয়েছে, যা ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে আজ শেষ হয়েছে। পর্যালোচনার সময় মোট ২,৫৬৮ জন প্রার্থী তাদের নামজারি জমা দিয়েছিলেন।
পর্যালোচনা কর্মে নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারগণ প্রত্যেক আবেদন যাচাই করে স্বীকৃত প্রার্থীর তালিকায় ১,৮৪২ নাম যুক্ত করেছেন এবং ৭২৩ নাম প্রত্যাখ্যানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
তবে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ফেনি-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় জমা দেওয়া তিনটি নামজারি এখনও পর্যালোচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
ধাকার নির্বাচন অফিসে স্বীকৃত নামজারির সংখ্যা সর্বোচ্চ, যেখানে ৩০৯ প্রার্থী অনুমোদিত হয়েছে। অন্যদিকে, ফরিদপুরে মাত্র ৯৬ প্রার্থীই স্বীকৃত হয়েছেন, যা সর্বনিম্ন সংখ্যা।
প্রত্যাখ্যানের দিক থেকে ধাকা আবার শীর্ষে, যেখানে ১৩৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বরিশালে সর্বনিম্ন প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা ৩১টি, যা তুলনামূলকভাবে কম।
এই ফলাফল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ স্বীকৃত প্রার্থীর সংখ্যা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা তীব্র হবে।
নামজারি পর্যালোচনার সময় রিটার্নিং অফিসারদের কাজের স্বচ্ছতা ও সময়সীমা বজায় রাখা হয়েছে, যা নির্বাচনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার নামজারি বিষয়ক অনিশ্চয়তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কিছু অংশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, দিনাজপুরে চাঁদাবাজির মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাসহ দুইজনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ করেছে।
নামজারি স্বীকৃতি ও প্রত্যাখ্যানের তথ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
সর্বমোট ৩০০টি সংসদীয় আসনে এই নির্বাচনের জন্য নামজারি জমা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নামজারি প্রত্যাখ্যানের কারণের মধ্যে প্রায়শই প্রয়োজনীয় নথি অনুপস্থিতি, ফি প্রদান না করা অথবা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত, যা কমিশন পর্যালোচনার সময় স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
প্রত্যাখ্যাত ৭২৩ প্রার্থীর মধ্যে কিছু দলীয় প্রার্থী, আবার কিছু স্বাধীন প্রার্থীও রয়েছে; তাদের জন্য পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে তা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
নামজারি স্বীকৃত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত তাদের প্রচারণা পরিকল্পনা সমন্বয় করবে, বিশেষ করে ধাকা ও ফরিদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে যেখানে প্রতিযোগিতা



