বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সন্ধ্যায় সিলেটের উইন্ডসর হোটেলে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়ে দেন, পার্টির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও তরিকের রহমানের কাছেই শীঘ্রই দায়িত্ব হস্তান্তর হবে।
ফখরুলের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পার্টির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়ে গেছে, এবং তরিকের রহমানকে শীঘ্রই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষিত করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি আবার সিলেট থেকে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে, যা অতীতেও পার্টি বহুবার করেছে। এ ধাপটি পার্টির ঐতিহাসিক ভিত্তি ও সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বলেন।
ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, দেশের জন্য আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যদিও কিছু মিডিয়া নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবুও বিএনপি সেই উদ্বেগ শেয়ার করে না এবং শুরুর থেকেই স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন দাবি করে আসছে।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে শালীনভাবে বিদায় নেন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ফখরুলের মতে, গণতন্ত্র এক রাতের মধ্যে গড়ে ওঠে না, এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি একদিনে বিকশিত হয় না; তাই বিএনপি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন, অস্থায়ী সরকারের শাসনকালে গত এক বছরে দলগত হিংসা ও গুলিবর্ষণ বাড়ে, যা গণতন্ত্রের ক্ষয় ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
ফখরুলের মতে, একতাবদ্ধ প্রতিরোধই এই ধারা থামাতে পারে, এবং তা কেবলমাত্র মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের পুনর্গঠনই দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
বিএনপির এই ঘোষণার পর, বিরোধী দল ও বিশ্লেষকরা পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে, তবে তারা এখনও তরিকের রহমানের নতুন চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা চায়।
মিডিয়া সংস্থাগুলোও তরিকের রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ধাপগুলো, বিশেষ করে নির্বাচনী কৌশল ও জোট গঠনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পার্টি এখনো তার মূল লক্ষ্য—একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন—নির্ধারণে অটল।
বিএনপি এই মুহূর্তে সিলেটের রাজনৈতিক পরিবেশকে পুনরায় সক্রিয় করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যেখানে পার্টির ঐতিহ্যবাহী সমর্থক গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তরিকের রহমানের নেতৃত্বে পার্টি কীভাবে এই ভিত্তি ব্যবহার করে জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, ফখরুলের মন্তব্যগুলো পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুনর্গঠন, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকারের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সূচিত করতে পারে।



