রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাবের কারণে প্রতিনিধিরা সম্পূর্ণভাবে কাজ করতে পারছেন না। নির্বাচনের দুই মাসেরও বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও তহবিলের সঠিক চিত্র এখনও জানানো হয়নি, ফলে কার্যক্রম চালাতে স্পন্সর ও স্বয়ংসম্পদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস ও রাকসু নেতৃবৃন্দের তথ্য অনুযায়ী, রাকসু নামে ব্যাংকে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) রয়েছে। একটি ২০১৬ সালের এবং অন্যটি ২০২৩ সালের, যাদের মোট জমা ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এই দুই এফডিআরের মধ্যে বর্তমানে খুব কম পরিমাণ অবশিষ্ট রয়েছে।
এফডিআরের পাশাপাশি রাকসু তহবিলে বর্তমানে মাত্র ৭ লাখ টাকা উপলব্ধ রয়েছে। এই সীমিত অর্থের মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
রাকসু প্রথমবারের মতো ১৯৮৯-৯০ সেশনে ১৪তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫ বছর পর, ১৬ অক্টোবর ১৫তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রাকসু ফি সংগ্রহ করা হয়, যা তহবিলের প্রধান আয় উৎস।
১৯৯০ সাল থেকে জমা হওয়া তহবিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের জন্য ১২ লাখ টাকা ব্যবহার করেছে। এছাড়াও দুটি অন্যান্য খাতে যথাক্রমে ৪৯ লাখ টাকা ও ১৩.৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তবে এই দুই খাতের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
তহবিলের হিসাব পরিষ্কার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির কাজ ছিল ১৫ নভেম্বরের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়নি। এই দেরি তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
রাকসু সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির জানান, রাকসু তহবিল থেকে কোনো নতুন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে স্পন্সরশিপ ও সদস্যদের নিজস্ব পকেটের টাকা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
সাব্বির আরও উল্লেখ করেন, ২০১৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে রাকসু তহবিল থেকে একাধিকবার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, তবে এই অর্থগুলো এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। এফডিআরের অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ খুবই সীমিত, যা তহবিলের স্বাস্থ্যের ওপর উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
রাকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পূর্ববর্তী বছরের কোনো ফাইল তার দপ্তরে নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে হলগুলোর খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। ৩৫ বছর রাকসু না থাকায় কাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তবে এখন ধীরে ধীরে দায়িত্বের পরিধি বুঝে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আম্মার উল্লেখ করেন, রাকসুতে বর্তমানে করা সব কার্যক্রম ধার করে চালানো হচ্ছে। তহবিলের ঘাটতি সত্ত্বেও তারা বিজ্ঞাপন, ইভেন্ট ও অন্যান্য ছাত্র-সেবা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ফরিদউদ্দিন খান জানান, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা রাকসু ফি প্রদান করে। যদি এই অর্থ শিক্ষার্থীর কল্যাণে ব্যয় হয়, তবে তা যুক্তিসঙ্গত। তবে তহবিলের ব্যবহার ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের অবদানের ফলাফল দেখতে পারে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: রাকসু ফি প্রদান করার সময় তার ব্যবহার সম্পর্কে প্রশ্ন করা এবং তহবিলের প্রতিবেদন চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তহবিলের স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছাত্রসংঘের কার্যক্রমকে সমর্থন করা যায়।



