জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতের মধ্যে জোট গঠনের প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আজ রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, জোটের শর্তাবলি, বিশেষ করে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বললেন, পার্টির প্রধান লক্ষ্য এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানো।
দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং এনসিপি এই নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়ে অংশ নিতে চাচ্ছে। জুলাই ২০২৩-এ অভ্যুত্থান নেতৃত্ব দিয়েছিল এমন তরুণদের গঠিত দল এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই জোটের অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোটে আরও কয়েকটি ইসলামিক দল যুক্ত রয়েছে, ফলে জোটের মোট আসন ভাগাভাগি এখনও আলোচনা পর্যায়ে।
আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে এনসিপি প্রায় ত্রিশটি আসন পাবে বলে প্রাথমিক ধারণা রয়েছে, তবে আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে উভয় পার্টি এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরেই জনসাধারণকে জানানো হবে।
জোট গঠনের পেছনে অন্যতম কারণ হল ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পরিণতি। আখতার হোসেন ব্যাখ্যা করেন, এই ঘটনার পর জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যাতে সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনসিপির একক ক্ষমতা সীমিত না থাকে। তিনি আরও জানান, যদি জোটের দল সরকার গঠন করে, তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা এখনও চলমান এবং সিদ্ধান্তের পরই প্রকাশ করা হবে।
জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকে কয়েকজন নেতা পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আখতার হোসেন স্বীকার করেন, এই পদত্যাগের ফলে দলের অভ্যন্তরে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তবে পদত্যাগপত্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
আজ বিকালে এনসিপি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সময় জোট গঠনের পটভূমি, নির্বাচনী কৌশল এবং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। আখতার হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের যেকোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন জোর দিয়ে বলেন, এনসিপি ও জামায়াতের জোটের মূল লক্ষ্য হল নির্বাচনী বৈতরণি পার করা এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের শর্তাবলি চূড়ান্ত হওয়ার পরই পার্টি জনসাধারণকে স্পষ্টভাবে জানাবে, যাতে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এনসিপি ও জামায়াতের জোটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, তবে আখতার হোসেন স্পষ্ট করে বলেন যে পার্টি এখনো কোনো অনুমান বা বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পার্টি শুধুমাত্র নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটার সংযোগে মনোযোগ দেবে, এবং জোটের চূড়ান্ত রূপ ও সরকার গঠনের পরিকল্পনা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
সংক্ষেপে, এনসিপি ও জামায়াতের জোটের আলোচনা এখনও চলমান, আসন ভাগাভাগি ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অমীমাংসিত। পার্টি এখনো ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখছে। আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আশা করা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



