রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (RCA) সরকারীভাবে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI)‑কে আহ্বান জানিয়েছে যে, আগামী আইপিএল সিজন ১৯‑এর জন্য জয়পুরের সাওয়াই মান সিং (SMS) স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে রাখা হোক। অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করেছে যে, এই স্টেডিয়াম রাজস্থানের রয়্যালসের জন্য গৃহভিত্তিক সুবিধা প্রদান করে এবং ভক্তদের সমর্থন বজায় রাখে।
এই অনুরোধটি রাজস্থান সরকারের অধিক্ষেত্রের অধীনস্থ একটি অস্থায়ী কমিটি থেকে এসেছে, যার প্রধান দায়িত্বে ডি.ডি. কুমার ওয়াট (DD Kumawat) আছেন। কমিটি BCCI এবং আইপিএল কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি প্রেরণ করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি এবং আইপিএল চেয়ারম্যানের নামেও কপি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে কমিটি স্পষ্টভাবে RCA‑এর পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, টুর্নামেন্টের পূর্বে সকল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে। এই ব্যবস্থা BCCI‑এর নির্দেশিকা, প্রযোজ্য সরকারি বিধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
স্টেডিয়ামের অবকাঠামো সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সুবিধা এবং নিরাপত্তা সিস্টেমের উন্নয়ন করা হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে।
RCA উল্লেখ করেছে যে, পূর্বে SMS স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আইপিএল ম্যাচগুলোতে কোনো নিরাপত্তা সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, রোহিত শর্মার নেতৃত্বে মুম্বাই দল ও জয়পুরে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে প্রায় ২০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা ভক্তদের আস্থা প্রকাশ করে।
রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিনিধিরা স্টেডিয়াম পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, হোম গ্রাউন্ডের পরিবর্তন দলকে গৃহভিত্তিক সুবিধা ও ভক্ত সমর্থন থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
BCCI এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে, সিজন ১৯‑এর জন্য সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পর্যালোচনায় লজিস্টিক, আর্থিক এবং নিরাপত্তা দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
RCA নিশ্চিত করেছে যে, BCCI‑এর যে কোনো অতিরিক্ত চাহিদা দ্রুত পূরণ করা হবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সহজে সম্পন্ন হবে।
কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, স্টেডিয়ামটি অগ্নি নিরাপত্তা মান, জরুরি পলায়ন পরিকল্পনা এবং ম্যাচের সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা কর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
পরিবহন সংক্রান্ত দিক থেকে, স্টেডিয়ামটি জয়পুরের প্রধান সড়ক নেটওয়ার্ক এবং বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থানে অবস্থিত, যা দল ও ভক্তদের জন্য সহজগম্যতা নিশ্চিত করে।
এই আবেদনটি আইপিএল ভেন্যু বরাদ্দের বৃহত্তর আলোচনার অংশ, যেখানে রাজ্য সরকার ও ক্রিকেট সংস্থাগুলো আঞ্চলিক স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক দিকের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে।
পরবর্তী ধাপে BCCI‑এর অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন হবে, এবং সিজন ১৯‑এর চূড়ান্ত ভেন্যু তালিকা প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।



