চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আজ রাওজন ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়িতে ধারাবিক অগ্নিকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। সন্দেহভাজন মনির হোসেন, ৩৪ বছর বয়সী, রাঙ্গামাটি জেলার বাসিন্দা, কলেজ গেট এলাকায় আটক হয়।
গ্রেফতারের তথ্য চট্টগ্রাম ডিবি অতিরিক্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ মো. রাসেল কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। মনিরের বিরুদ্ধে লাঙ্গাডু (রাঙ্গামাটি) ও রাওজন থানা দু’টি থানায় মোট চারটি অপরাধের মামলা দায়ের রয়েছে; তার মধ্যে চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। পূর্বে চুরির মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ডও কাটিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধারকৃত প্রমাণ এবং সাক্ষীর বিবৃতি অনুযায়ী মনির ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্বের শত্রুতার ভিত্তিতে রজনগর ও রাণীরহাট (রাঙ্গামাটি) ও রাওজনের কিছু গৃহে আগুন লাগিয়ে সামাজিক সাদৃশ্য ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আগুনের মাধ্যমে দায়িত্ব অন্য গোষ্ঠীর ওপর আরোপ করে নিজের বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি অর্জন করতে চেয়েছিলেন। তদন্তের পরবর্তী ধাপে তাকে রিম্যান্ডে রাখা হবে এবং আরও তদন্ত চালিয়ে যাবে।
দেরি ডিসেম্বর মাসে রাওজন উপজেলায় একাধিক বাড়ি রাতারাতি জ্বলে গিয়েছিল। বাড়িগুলোর দরজা বাইরে থেকে লক করা অবস্থায় আগুন লাগানো হয়, ফলে বাসিন্দারা বাঁশ ও টিনের বেড়া কেটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
ঘটনাস্থল থেকে দুইটি হাতে লেখা ব্যানার উদ্ধার করা হয়; ব্যানারে নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে অপরিচিত সন্দেহভাজীদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, গৃহহত্যা ও গুমের মামলায় কমিশন সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে জোরপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই মন্তব্য বর্তমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে।
বর্তমানে মনির হোসেনকে আদালতে রিম্যান্ডে রাখা হবে এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি অপরাধের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং সামাজিক সাদৃশ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ অনুসন্ধানে পাওয়া ফোয়ারা, জ্বালানি ও জ্বালানির সূত্র, এবং আগুনের সময়ের সিসিটিভি রেকর্ডের বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়েছে।
রাওজন ও রাঙ্গুনিয়া উভয় উপজেলায় হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে, যা সম্প্রদায়ের ঐক্য বজায় রাখে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে এই গোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় নেতারা এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলো পুলিশকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নিকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি যদি প্রমাণিত হয় তবে তিনি দহন, সম্পত্তি ধ্বংস, সামাজিক সাদৃশ্য ব্যাহত করা এবং সম্ভবত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী দণ্ডিত হতে পারেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং ও দ্রুত প্রতিক



