সিলেটের একটি হোটেল হলরুমে রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মিডিয়া মিটিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের শীর্ষ পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দুই‑এক দিনের মধ্যে তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন পদে অধিষ্ঠিত করা হবে।
মহাসচিবের এই মন্তব্যের আগে তিনি সিলেটের সফর সম্পন্ন করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরানের মাজার পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সন্ধ্যায় তিনি জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সভায় অংশ নেন।
সভায় মির্জা ফখরুল বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনার দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারী শাসনকালে ‘মবোক্রেসি’ নামে একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষয় করছে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে তিনি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যদি সকল পক্ষ একসাথে কাজ করে তবে স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ পনেরো বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। এই সময়ে পার্লামেন্ট গঠন, সরকার গঠন, ন্যায়বিচার ও স্বাধীন মিডিয়া নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মূল শর্ত।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, অতীতের পনেরো বছর ধরে এই শর্তগুলো পূরণ হয়নি, তবে এখন সুযোগ এসেছে। তিনি আহ্বান জানান, এই সুযোগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে এগিয়ে নিতে হবে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একদিনে গণতন্ত্র বা তার প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না; তা সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফল।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, তার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির নয়, সমগ্র দেশের নেতা ছিলেন, যিনি গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
মহাসচিবের মতে, জিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে দেশের মানুষ তার প্রতি কতটা ভালোবাসা ও সম্মান পোষণ করত তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, জিয়া সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন; এখন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান নেতৃত্বের ওপর।
মিটিং শেষে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন, দুই‑এক দিনের মধ্যে তারেক রহমানকে চেয়ারপার্সন পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা দেখা যায়।
বিএনপি এই পদক্ষেপকে দলের পুনর্গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নতুন চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কীভাবে অবস্থান করবে তা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।
সিলেটের এই মিডিয়া মিটিংয়ের পর দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমাবেশ বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কৌশল ও জোট গঠন হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



