22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিএকরামুজ্জামানের সম্পদ ও রাজনৈতিক যাত্রা: দুবাই‑পাম, মারসা ও বুর্জ‑খলিফা ফ্ল্যাটসহ বিশাল সম্পদ...

একরামুজ্জামানের সম্পদ ও রাজনৈতিক যাত্রা: দুবাই‑পাম, মারসা ও বুর্জ‑খলিফা ফ্ল্যাটসহ বিশাল সম্পদ প্রকাশ

রকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরামুজ্জামান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑১) ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর রাজনৈতিক ও আর্থিক দিক থেকে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি পূর্বে বিএনপি তে দু’বার (নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ) প্রার্থী ছিলেন, তবে দুবারই পরাজিত হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর, একরামুজ্জামানকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত করা হয় এবং একই বছর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। একই সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন, তবে কমিটি ঘোষণার পরই তিনি দলীয় কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

একরামুজ্জামানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি এবং বয়স ৬৯ বছর। তিনি ব্যবসায়িক পেশা গড়ে তুলেছেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে একরামুজ্জামান ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার আয়কর প্রদান করেছেন। একই সময়ে তার সম্পদের মোট মূল্য ২৬৫ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার টাকার হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তার স্ত্রী নাঈমা জাহান আক্তার ১৭ হাজার টাকার আয়কর প্রদান করেছেন এবং তার সম্পদ ২ কোটি ১৭ লাখ ৬ হাজার টাকার। দুই সন্তানও সম্পদ ও আয়কর দাখিল করেছেন; বড় ছেলে সাইলিন জাহান আকবর ১০ লাখ ৯৩ হাজার টাকার আয়কর দিয়ে ১১ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন, আর ছোট ছেলে কামার উজ জামান ৪০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার আয়কর দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পদ প্রকাশ করেছেন।

গত সাত বছরে একরামুজ্জামানের অস্থাবর সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৫৬ কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৮৭ টাকায় বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংকে মোট ৩৭ লাখ ৭ হাজার টাকার জমা রয়েছে। শেয়ার বাজারে তার বিনিয়োগ ৩১৪ কোটি ২১ লাখ ৪২ হাজার টাকার এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৭৪ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার। এছাড়া তার নামের অধীনে ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১.৮ মিলিয়ন টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের তালিকায় দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহতে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার টাকার মূল্যের ২,১৫৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মারসায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ১,৪২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং বুর্জ খলিফায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকার একটি ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত। এই সম্পদগুলো তার আন্তর্জাতিক সম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

একরামুজ্জামানের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সম্পদ প্রকাশের পটভূমিতে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, স্বতন্ত্রভাবে জয়লাভের পর তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে, যা তার ব্যবসায়িক স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। তবে, তার সম্পদের বিশাল পরিমাণ এবং বিদেশি সম্পত্তির উপস্থিতি রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছ থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, বিশেষ করে সম্পদের উত্স ও ঋণ গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে।

ভবিষ্যতে একরামুজ্জামানের রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনো অনিশ্চিত। তিনি যদি আওয়ামী লীগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন, তবে তার সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংযোগগুলো পার্টির নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা তার সম্পদের স্বচ্ছতা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্তের দাবি করতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকা কী হবে তা নজরে থাকবে।

একরামুজ্জামানের কেস দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বচ্ছতার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার সম্পদ ও রাজনৈতিক যাত্রা উভয়ই দেশের জনমত গঠন এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments