শরীয়তপুরের ডামুড্যা এলাকায় ৩ জানুয়ারি খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। দাস, যিনি ওষুধ ব্যবসায়ী, গত বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার হন।
আক্রমণকারীরা তার ওপর ছুরি চালিয়ে মারধর করেন এবং পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থল থেকে দূরে অবস্থিত কেউরভাঙ্গা বাজারের নিকটে এই হামলা সংঘটিত হয়।
দাসের শারীরিক আঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সড়কের পাশে একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন, যেখানে স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তিনি বেঁচে থাকেন। পুকুরে ডুবে যাওয়ার পরেও তার চিৎকার শোনা যায়, ফলে হামলাকারীরা তৎক্ষণাৎ সরে যায়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে রাত দশটায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায়, চিকিৎসা উন্নত করার জন্য তাকে ঢাকা পাঠানো হয়।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর দাসকে অস্ত্রোপচার করা হয়, তবে দেহের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিন দিন চিকিৎসার পর, ৩ জানুয়ারি সকালে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দাসের মৃত্যুর আগে, তার চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানের নির্দেশে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। এই সহায়তা তার পরিবারকে জরুরি চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সাহায্য করে।
মৃত্যুর পর, তারেক রহমানের একান্ত সচিব মিয়া নূরউদ্দিন আহম্মেদ অপু দাসের স্ত্রী সীমা দাসের হাতে আরেকটি অনুদান পৌঁছে দেন। এই অর্থদান দাসের পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হবে।
তারা জানিয়েছেন যে দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীর শোক ও মর্মাহত। একই সঙ্গে, সকল দায়ী অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামলাকারীদের মধ্যে জুরি সোয়াগ খান, মাদক ব্যবসায়ী রাব্বি মোল্লা এবং পলাশ সরদার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা জেলখানায় রাখা হয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে, মামলাটি স্থানীয় থানা ও জেলা আদালতে দাখিল করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিএনপি দলও দাসের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। দলটি বলেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, খোকন চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।



