যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বৃহৎ অপারেশন চালিয়ে ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার সঙ্গীকে গ্রেফতার করে, তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ৪ জানুয়ারি রবিবারের পরেই প্রকাশিত হয়, যখন ভারতীয় সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মোদির কাছে একই রকম পদক্ষেপের পরামর্শ দেন। ওয়াইসি উল্লেখ করেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতাকে তার নিজের দেশ থেকে তুলে নিতে পারেন, তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে গিয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে ফিরিয়ে আনতে পারেন।
ভেনেজুয়েলায় একদিনের মধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর ওপর মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নিউ ইয়র্কে মামলা দায়ের করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মতে, দম্পতি দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সন্দেহ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মাদুরোকে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি অপারেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, ভেনেজুয়েলা বিষয়ে তার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করে কাজ করবে, যতক্ষণ না দেশটি নিরাপদ, সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের পথে অগ্রসর হয়। ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি জোর দেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
ওয়াইসি, যিনি ভারতের জাতীয় স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ভারতীয় নীতি নির্ধারণের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি পাকিস্তানে গিয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারীকে পুনরায় দেশে আনতে চান, তবে ট্রাম্পের মতোই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। ওয়াইসির মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী উদাহরণ দেখিয়ে দেশীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।
২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলা, যা ২০০৮ সালে মুম্বাইতে সংঘটিত হয়, তার পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির নাম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বহু বছর ধরে অনুসন্ধান করে আসছে। ওয়াইসি এই ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে আনার কথা উল্লেখ করে, যা পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের নতুন মোড় আনতে পারে। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতাকে তার নিজ দেশ থেকে তুলে নিতে পারে, তবে ভারতও একই রকম কৌশল অবলম্বন করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
এই মন্তব্যের পর ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য কূটনৈতিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করেন, ওয়াইসির প্রস্তাবনা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো সরকারী নীতি বা পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি, এবং মোদির অফিসিয়াল মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছে, আবার অন্যরা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সমাধানে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল ভেনেজুয়েলায় একটি ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ রূপান্তর নিশ্চিত করা, যা দেশের জনগণের স্বার্থে হবে।
ইতিপূর্বে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে গ্রেফতার করেছিল। এই অপারেশনটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং বিভিন্ন বিশ্লেষকরা এর কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন। অপারেশনের পর মাদুরোর ওপর মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নিউ ইয়র্কে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ওয়াইসির মন্তব্যের পর ভারতীয় সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী উদাহরণ দিয়ে দেশের নিরাপত্তা নীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে যদি ভারত পাকিস্তান থেকে কোনো সন্দেহজনক সন্ত্রাসীকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে পরিচালিত হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অপারেশন এবং ট্রাম্পের রূপান্তর নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। একই সময়ে, ওয়াইসির মোদির প্রতি আহ্বান ভারতীয় নিরাপত্তা নীতি ও পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের সম্ভাব্য পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে। এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে কিভাবে বিকশিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারির বিষয় হবে।



