22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৯৬৮.২৮ মিলিয়ন ডলার

ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৯৬৮.২৮ মিলিয়ন ডলার

ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৯৬৮.২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ব মাসের তুলনায় প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি দেশের রপ্তানি খাতের গতিশীলতা নির্দেশ করে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই‑ডিসেম্বর) মোট রপ্তানি আয় ২৩৯৯৮.৮৭ মিলিয়ন ডলার রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ের পূর্ব বছরের তুলনায় এটি ২.১৯ শতাংশ কমে গেছে, যখন পূর্ববছরের আয় ছিল ২৪৫৩৩.৫০ মিলিয়ন ডলার।

ডিসেম্বর ২০২৪-এ রপ্তানি আয় ১৪.২৫ শতাংশ বেশি ছিল, ফলে এই মাসে বছরে তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। এই পতন মূলত বৈশ্বিক চাহিদা ও মুদ্রা মূল্যের পরিবর্তনের ফলে ঘটেছে, যা রপ্তানি আয়ের সামগ্রিক প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে।

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাকের অংশ এখনও সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর মাসে এই সেক্টর থেকে অর্জিত আয় ৩২৩৪.১৩ মিলিয়ন ডলার, যা নভেম্বরের তুলনায় ১.৯৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাক শিল্পের স্থিতিশীল পারফরম্যান্স রপ্তানি আয়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

নিটওয়্যার এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি উভয়ই এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে নিটওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের সামগ্রিক উন্নতিতে সহায়তা করেছে। ওভেন পোশাকের রপ্তানি পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, ফলে মোট রপ্তানি আয়কে সমর্থন করেছে।

প্রধান গন্তব্য বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য শীর্ষে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় ৭.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, জার্মানিতে ১৮.০৮ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ১৪.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। এই তিনটি বাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

উদীয়মান ও কৌশলগত বাজারেও রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি ২৫.৩৯ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ২১.৩৩ শতাংশ এবং কানাডায় ৯.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাজারগুলোতে সম্প্রসারণ বাংলাদেশের পণ্যকে নতুন ভোক্তা গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করছে।

রপ্তানি আয়ের এই মিশ্র প্রবণতা দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য এবং মুদ্রা রিজার্ভে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যদিও সামগ্রিক রপ্তানি আয় বছরে হ্রাস পেয়েছে, তবে উচ্চ বৃদ্ধির বাজারগুলো থেকে আয় প্রবাহ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, পোশাক শিল্পের উৎপাদন দক্ষতা ও মান উন্নয়ন, পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশল রপ্তানি আয়কে পুনরায় বৃদ্ধি করতে পারে। তবে বৈশ্বিক মুদ্রা অস্থিরতা ও রপ্তানি চাহিদার পরিবর্তন ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে, যা নীতিনির্ধারকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলবে।

সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ রপ্তানি আয় ৩৯৬৮.২৮ মিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে, যা মাসিক ভিত্তিতে বৃদ্ধি দেখিয়েছে, তবে বছরে তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে। তৈরি পোশাকের মূলধারার শক্তি, শীর্ষ তিনটি গন্তব্যের উন্নতি এবং উদীয়মান বাজারের উত্থান ভবিষ্যতে রপ্তানি আয়ের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments