গোপালগঞ্জের সদর দফতরে রবিবার, ৪ জানুয়ারি, জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬ এর অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব ১৫ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি চূড়ান্ত টায়ব্রেকার ম্যাচে শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারকে মামুন ফুটবল একাডেমি পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা অর্জন করে।
এই ইভেন্টটি গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে, স্থানীয় ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে, অনূর্ধ্ব ১৫ বয়সের তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ তৈরি করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২৬ এর অধীনে এই ধরনের টুর্নামেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যা যুবকদের ক্রীড়া দক্ষতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
প্রতিযোগিতার সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত গোপালগঞ্জের ক্রীড়া ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় মাঠে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিভিন্ন স্কুল ও ক্লাবের দলগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও নিয়মাবলী জেলা ক্রীড়া অফিসের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।
চূড়ান্ত ম্যাচে দুই দলই সমান স্কোরে পৌঁছায়, ফলে টায়ব্রেকার শুটআউটের দরকার হয়। শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার টায়ব্রেকারে মামুন ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে, ফলে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা তার হাতে থাকে। এই জয় গোপালগঞ্জের যুব ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর অনিরুদ্ধ দেব রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বিজয়ী ও দ্বিতীয় স্থানধারী দলকে সম্মানিত করেন। পুরস্কার বিতরণে শিপন ট্রেনিং সেন্টারের খেলোয়াড় ও কোচরা গর্বের মুহূর্ত উপভোগ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সমীর কুমার কুন্ডু উপস্থিত ছিলেন। তিনি টুর্নামেন্টের সাফল্য ও গোপালগঞ্জের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সম্ভাবনা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. শাহীন সুলতান রাজা। তিনি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সমাপ্তি পর্যন্ত সব ধাপের তদারকি করেন এবং অংশগ্রহণকারী সকলের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেন।
পুরস্কার বিতরণে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার আব্দুল মান্নান মানি, যিনি ক্রীড়া জগতের একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তার উপস্থিতি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রেমী, পরিবারিক সদস্য ও স্থানীয় দর্শকগণও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সময় গোপালগঞ্জের স্থানীয় মিডিয়া ও সংবাদ সংস্থা উপস্থিত থাকে, যা টুর্নামেন্টের প্রতিটি মুহূর্তকে নথিভুক্ত করে। মাঠের চারপাশে উল্লাসের স্রোত, তালি ও চিৎকারের মিশ্রণ দেখা যায়, যা ক্রীড়া উত্সাহের উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে।
এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের ক্রীড়া প্রশাসন যুবকদের জন্য একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম সরবরাহের সক্ষমতা প্রদর্শন করে। অনূর্ধ্ব ১৫ ফুটবল প্রতিযোগিতা ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় টুর্নামেন্টের ভিত্তি স্থাপন করে।
সর্বশেষে, শিপন ফুটবল ট্রেনিং সেন্টারের জয় গোপালগঞ্জের ক্রীড়া জগতে নতুন উদ্যম যোগায়। টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দক্ষতা প্রকাশ করে, যা ভবিষ্যতে আরও তরুণ প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হবে।



