ঢাকা, ৪ জানুয়ারি – জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু রাখার সিদ্ধান্তে সরকার কোনো পরিবর্তন আনেনি। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব রোববার দুপুরে আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবন পরিদর্শনের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক হ্রাসের ফলে এনইআইআর সিস্টেমটি অব্যাহত থাকবে।
এনইআইআর ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে। একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩.৪ শতাংশ করা হয় এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি করা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকে মোবাইল ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজারে সড়ক অবরোধ করে এবং এনইআইআর বন্ধের দাবি জানায়। প্রতিবাদকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন, ফলে পুলিশ লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিটিআরসি ভবনে প্রতিবাদকারীদের দ্বারা কিছু ক্ষতি করা হয়; জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলা এবং দরজা ভাঙা সহ কিছু সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের আইনি দায়িত্ব আরোপের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা এনইআইআর বন্ধের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি চেয়েছেন। তারা দাবি করেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে বাজারে সস্তা ফোনের প্রবেশ সহজ হয়েছে, তবে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষতি করে।
সরকারের দৃষ্টিতে এনইআইআর চালুর মূল উদ্দেশ্য হল কর ফাঁকি রোধ, অবৈধ ও নকল ফোনের প্রবেশ বন্ধ করা এবং অপরাধ দমনকে ত্বরান্বিত করা। সিস্টেমটি প্রতিটি হ্যান্ডসেটের ইউনিক আইডি রেকর্ড করে, যা চুরি, নকল এবং অবৈধ বাণিজ্য চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে বৈধভাবে আমদানি করা ফোনের দাম কমে, যা ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা মানে বিক্রেতা ও আমদানিকর্তা দুজনেরই অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের বোঝা বাড়বে। এই বিষয়টি নিয়ে শিল্প সমিতি ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এনইআইআর সিস্টেমের প্রযুক্তিগত দিক থেকে, প্রতিটি ডিভাইসের IMEI নম্বরের সঙ্গে একটি ইউনিক কোড যুক্ত করা হয় এবং তা কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হয়। এই ডাটাবেসে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সংস্থা পাবে, যা গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে বাজারে সস্তা ফোনের প্রবেশ বাড়বে, তবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তারা দাবি করেন, সরকার যদি সত্যিই মোবাইল বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে চায়, তবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতে হবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মতে, এনইআইআর চালু থাকা সত্ত্বেও নতুন অবৈধ হ্যান্ডসেটের আমদানি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নিষিদ্ধ হবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অবৈধ বাজারকে দমন করা এবং বৈধ ব্যবসায়িক পরিবেশ রক্ষা করা লক্ষ্য।
বিটিআরসি ভবনে ঘটিত হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মোটের ওপর, সরকার শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে ভোক্তাদের সুবিধা বাড়াতে চায়, তবে এনইআইআর চালু রেখে বাজারে নকল ও অবৈধ ডিভাইসের প্রবেশ রোধের জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করবে। ব্যবসায়ীরা এই নীতির প্রতি আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, আর সরকার আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।



