ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা, সচিবালয় ও যমুনা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সব রকমের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ জানানো হয়েছে। জেলা ম্যানেজার (ডিএমপি) এই নির্দেশের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের সময়কাল ও শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে সকল ধরণের সমাবেশ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক র্যালি ও সামাজিক সমাবেশ অন্তর্ভুক্ত হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো ধরনের সমাবেশের প্রচেষ্টা সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা, গ্রেফতার বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঝুঁকি কমিয়ে আনা, যা সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন অংশে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিএমপি উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বে ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা মূলত নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে কিছু রাজনৈতিক দলের সমাবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপের ফলে জনমত গঠন ও প্রচার কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান নিষেধাজ্ঞা সেই একই নিরাপত্তা উদ্বেগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিপুল জনসাধারণের সমাবেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, সচিবালয় ও যমুনা এলাকার এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই এই অঞ্চলে সময়ে সময়ে সমাবেশের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে থাকে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় উভয় দলের স্থানীয় শাখাগুলোকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যেমন অনলাইন ক্যাম্পেইন বা সীমিত সংখ্যক অংশগ্রহণকারী সহ ছোট আকারের সভা।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপটি শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবার সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বড় আকারের সমাবেশের ফলে রাস্তায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হতে পারে, যা জরুরি সেবা ও দৈনন্দিন যাতায়াতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের বাধা কমিয়ে শহরের সামগ্রিক কার্যক্রমকে সুষ্ঠু রাখা সম্ভব হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সংগঠন এই নিষেধাজ্ঞাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার সীমাবদ্ধ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করছেন যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা সত্ত্বেও, সমাবেশের অধিকার সংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং কোনো সীমাবদ্ধতা প্রয়োগের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। তবে সরকারী পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি যে, কেন এই সময়ে বিশেষভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ডিএমপি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সমাবেশের অনুমতি প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে তা স্পষ্ট করে জানাতে। এছাড়া, কোনো জরুরি বা মানবিক উদ্দেশ্যে সমাবেশের প্রয়োজন হলে বিশেষ অনুমতি প্রদান করা হবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হতে পারে। এই ধরনের প্রক্রিয়া নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার মধ্যে সমতা রক্ষা করার লক্ষ্যে গৃহীত হবে।
সারসংক্ষেপে, সচিবালয় ও যমুনা এলাকার সকল ধরণের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে স্থানীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের সমাবেশের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে, তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ও শর্তাবলী সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য পরিকল্পনা করা সহজ হবে।



