ইস্ট লন্ডনের লন্ডন স্টেডিয়ামে নুনো এস্পিরিটো সান্তো এখনো দলের সমর্থন বজায় রাখতে সংগ্রাম করছেন। শনিবারের ম্যাচে উল্ভসের কাছে ৩-০ পরাজয়ের পর হ্যামের রিলিগেশন ঝুঁকি বাড়ছে, আর মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি হবে নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে, যাকে এখনো হ্যাম চতুর্থ স্থান থেকে চার পয়েন্টের পিছিয়ে। দলের মনোবল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কোচের ব্যবস্থাপনা ও কৌশল নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
উল্ভসের বিরুদ্ধে ৩-০ পরাজয় হ্যামের বর্তমান অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। প্রিমিয়ার লিগের ১৮তম স্থানে থাকা দলটি এখনো চার পয়েন্টের ফাঁক দিয়ে ফরেস্টের পিছনে রয়েছে, এবং রিলিগেশন জোন থেকে বেরিয়ে আসা এখনো দূরের স্বপ্ন। এই পরাজয়টি কোনো চমক নয়; হ্যাম গত সপ্তাহে লিডস এবং ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে একই রকম বড় পরাজয় ভোগ করেছে, যেখানে দলটি মূল খেলোয়াড়ের অভাবে এবং অপ্রত্যাশিত পজিশনিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহাম পটার্টারের পরিবর্তে নুনো এস্পিরিটো সান্তো যখন দায়িত্ব নেন, তখন থেকে তার ১৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করতে পেরেছেন। বাকি সব ম্যাচে দলটি হারের মুখে বা ড্রয়ের সঙ্গে শেষ হয়েছে, যা ক্লাবের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে বিপন্ন করেছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে, এবং ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
দলীয় পরিবেশে দূরত্ব এবং যোগাযোগের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়রা জানাচ্ছে যে প্রশিক্ষণের সময় প্রয়োগ করা পদ্ধতিগুলি কখনও কখনও অস্বচ্ছ এবং গেম প্ল্যানের ব্যাখ্যা কম। ফলে কিছু খেলোয়াড় নিজেদেরকে কোচের পরিকল্পনার বাইরে অনুভব করছেন, এবং তাদের মতামত শোনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দলীয় ঐক্যকে ক্ষয় করে এবং মাঠে পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কৌশলগত দিক থেকে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে লিডস এবং ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে নুনো ভুলভাবে পূর্ণ‑ব্যাকদের বিপরীত দিকের পজিশনে বসিয়েছেন, এবং স্বীকৃত ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতি বজায় রেখেছেন। এই ভুল গঠনমূলক সিদ্ধান্তগুলো দলকে আক্রমণাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলেছে, ফলে প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবেলায় যথেষ্ট বিকল্প না থাকায় স্কোরবোর্ডে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে রক্ষণাত্মক পরিবর্তনগুলোও সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ সাবস্টিটিউশন করা হয়, যা প্রায়ই আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সীমিত করে এবং গেমের গতি ধীর করে দেয়। পারফরম্যান্স মেট্রিক্সে ধারাবাহিক হ্রাস দেখা যাচ্ছে, যা দলের সামগ্রিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করছে। উল্ভসের বিরুদ্ধে হঠাৎ ৩-০ পরাজয়, যেটি পুরো মৌসুমে কোনো লিগ জয় না করা দল, এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মঙ্গলবারের ম্যাচটি হ্যামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে দলটি চার পয়েন্টের ফাঁক কমাতে চায়, তবে কোচের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের মনোবল পুনরুদ্ধার করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, হ্যামকে দ্রুতই স্পষ্ট পরিকল্পনা ও যোগাযোগের মাধ্যমে দলের আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করতে হবে, নতুবা রিলিগেশন ঝুঁকি বাড়তে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, নুনো এস্পিরিটো সান্তোর অধীনে ওয়েস্ট হ্যামের পারফরম্যান্স ও মনোবল দুটোই হ্রাস পাচ্ছে। প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, পজিশনিং এবং যোগাযোগের ঘাটতি দলীয় ঐক্যকে ক্ষয় করছে, এবং রিলিগেশন থেকে বাঁচার জন্য তাত্ক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন। ক্লাবের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে মঙ্গলবারের ম্যাচটি যদি সফল হয়, তবে দলটি পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।



