আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক টি২০ বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ ভারতের বাইরে সরানোর আবেদনটি পর্যালোচনা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং আইসিসি আজকের জন্য কোনো বৈঠকও আয়োজন করেনি। তবে সূত্র অনুযায়ী, আইসিসি এই অনুরোধকে স্বীকার করে শ্রীলঙ্কা, যা টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক, সেখানে স্থানান্তরের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের দল টুর্নামেন্টের লিগ পর্যায়ে সব চারটি ম্যাচ ভারতের ভিন্ন শহরে খেলবে। এর মধ্যে তিনটি কলকাতা ও একটি মুম্বাইতে নির্ধারিত হয়েছে। এই ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিলে লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জ কমে যাবে বলে বিসিবি যুক্তি দিয়েছে।
বিসিবি আজ সকালে আইসিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়ে ভারতীয় মাটিতে ম্যাচ খেলার ঝুঁকি ও অসুবিধা তুলে ধরেছে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা দলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে।
আইসিসি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদি শ্রীলঙ্কা বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে শ্রীলঙ্কার স্টেডিয়ামগুলোতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।
শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে টি২০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে প্রস্তুতিতে রয়েছে এবং অতিরিক্ত ম্যাচের জন্য অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম। তবে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ভ্রমণ সময়সূচি ও টিকিটের ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ দলের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শিডিউলেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে দলটি কলকাতা ও মুম্বাইয়ের স্টেডিয়ামগুলোতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শ্রীলঙ্কা হলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে।
আইসিসি কর্তৃক এই অনুরোধের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের পেছনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি ও খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা রয়েছে। বিশ্বকাপের সময়সূচি বজায় রাখতে এবং সকল অংশগ্রহণকারী দেশের স্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের সমন্বয় প্রয়োজনীয় হতে পারে।
বিসিবি এই মুহূর্তে আইসিসির কাছ থেকে চূড়ান্ত উত্তর প্রত্যাশা করছে। যদি অনুরোধ মঞ্জুর হয়, তবে শ্রীলঙ্কা নতুন হোস্ট হিসেবে অতিরিক্ত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হবে এবং বাংলাদেশ দলকে নতুন ভেন্যুতে খেলার সুযোগ দেবে।
অন্যদিকে, যদি আইসিসি বর্তমান পরিকল্পনা বজায় রাখে, তবে বাংলাদেশ দলকে ভারতের নির্ধারিত চারটি স্টেডিয়ামে খেলা চালিয়ে যেতে হবে। এই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোকে সমাধান করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্বকাপের শিডিউল অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টের লিগ পর্যায়ে অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে। নির্দিষ্ট ম্যাচের তারিখ ও সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তবে স্থানান্তরের সম্ভাবনা থাকায় এই তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।
এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা ও অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ। আইসিসি যদি স্থানান্তরের অনুমতি দেয়, তবে এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুরোধের জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।
বিসিবি ও আইসিসি উভয়ই এই সিদ্ধান্তকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নিতে চায়, যাতে খেলোয়াড়, স্টাফ এবং ভক্তদের জন্য কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে। টি২০ বিশ্বকাপের সমগ্র সময়সূচি ও লজিস্টিক পরিকল্পনা এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, তাই দুই সংস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।



