জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই সময়সীমা নির্ধারণের কথা জানায়।
প্রথম দিনই, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বইগুলো শিক্ষার্থীর হাতে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচটি ক্ষুদ্র জাতিগত গোষ্ঠীর ভাষায় প্রকাশিত বইগুলোও সময়মতো পৌঁছেছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো এখনো মুদ্রণ ও বিতরণ পর্যায়ে রয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৮৪.৭৮ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। এই সংখ্যা গড়ে গৃহীত, যেখানে মোট ২১.৪৩ কোটি বইয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইবতেদায়ি স্তরের ৯৬.১৬ শতাংশ বই ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে।
মাধ্যমিক স্তরে এখন পর্যন্ত ৭৮.৬৯ শতাংশ বই স্কুলে পাঠানো হয়েছে। ক্লাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ৮৮ শতাংশ বই পৌঁছেছে, আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮৫ শতাংশের বেশি বই বিতরণ হয়েছে। অন্যদিকে, সপ্তম শ্রেণিতে মাত্র ৬৮ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৫৪.৭৬ শতাংশ বইই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছে।
মুদ্রণ সংস্থার সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তি ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈধ থাকবে। তবুও বোর্ড ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব কাজ শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাগজের বইয়ের পাশাপাশি, ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবি তার ওয়েবসাইটে ৬৪৭টি পাঠ্যবইয়ের ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশ করেছে, যা শিক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে।
এই উদ্যোগের পেছনে শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং বইয়ের ঘাটতি দূর করা অন্যতম লক্ষ্য। বইয়ের অনলাইন সংস্করণগুলো ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত যে কোনো স্থানে সহজে প্রবেশযোগ্য, ফলে দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সুবিধা পাবে।
প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই বিতরণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও, মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের ঘাটতি এখনো সমাধান করা বাকি। বিশেষ করে অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে, যা শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি বইগুলো দ্রুত মুদ্রণ ও বিতরণ করা হবে, যাতে সকল শিক্ষার্থী সমানভাবে পাঠ্যবই পেতে পারে। চুক্তি নবায়নের আগে মুদ্রণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজের গতি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সময়মতো বই সরবরাহ শিক্ষার্থীর মনোযোগ ও পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই ১৫ জানুয়ারির লক্ষ্য পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শিক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণ থেকে, অনলাইন বইগুলো ব্যবহার করে বাড়িতে বা স্কুলে অতিরিক্ত রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া, বইয়ের ঘাটতি কমাতে স্থানীয় লাইব্রেরি ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলোও সহায়তা করতে পারে।
আপনার কি কোনো ক্লাসে বইয়ের ঘাটতি অনুভব করছেন? অথবা অনলাইন সংস্করণ ব্যবহার করে কোনো সুবিধা পেয়েছেন? মন্তব্যে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে সবাই একে অপরের থেকে শিখতে পারে।



