অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন, ৫৪ বছর বয়সে, মেনিনজাইটিসের কারণে আরোপিত কমা থেকে সজীব হয়ে উঠেছেন। গত মাসের শেষের দিকে মার্টিনের স্বাস্থ্যের অবনতি তীব্র হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের চারপাশের ঝিল্লি ফোলার রোগটি নির্ণয় করে, যা তাকে তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার অধীনে রাখে।
মার্টিনের অবস্থা দ্রুত উন্নতি দেখায়; বর্তমানে তিনি কথা বলতে এবং চিকিৎসার প্রতি সাড়া দিতে সক্ষম। পরিবার জানায়, এই অপ্রত্যাশিত উন্নতি তাদের জন্য এক ধরনের ‘অদ্ভুত আশ্চর্য’ হিসেবে অনুভূত হচ্ছে। গল্ড কোস্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের তীব্র সেবার ইউনিট থেকে তাকে শীঘ্রই সাধারণ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাক্তন দলীয় সঙ্গী আদাম গিলক্রিস্ট এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করে, গত ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তনকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি যোগ করেন, মার্টিন এখন কথা বলতে পারছেন এবং চিকিৎসার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন, যা পরিবারকে আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। গিলক্রিস্টের কথায় স্পষ্ট যে, রোগীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়েছে।
মার্টিনের স্বাস্থ্যের খবর জানার পর, ক্রিকেট জগতের বহু বিশিষ্ট নাম সমর্থনের বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন মাইকেল ভন, ভারতীয় স্পিনার রবিশন্দ্রন আশ্বিন এবং ভি.ভি.এস. লক্ষ্মণসহ বহু কিংবদন্তি তার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই সমর্থনগুলো মার্টিনের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য মানসিক শক্তি যোগায়।
ড্যামিয়েন মার্টিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ২০৮টি ওয়ান-ডে আন্তর্জাতিক খেলেছেন। তার ক্যারিয়ারে ১৩টি শতক অর্জন করে গড়ে ৪৬.৩৭ রান বজায় রেখেছেন, যা তাকে সময়ের অন্যতম শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
স্টিভ ওয়ফের অধীনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দলে মার্টিনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি দলকে স্থিতিশীলতা ও আক্রমণাত্মক শক্তি প্রদান করে বহু গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেছেন। ২০০৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে, ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে তিনি ৮৮ না-আউট রান করে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ‘অ্যাশেস’ সিরিজের সময় মার্টিন অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, যা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সূচনা করে। অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি মিডিয়ার দৃষ্টিগোচর থেকে দূরে থেকেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে মনোনিবেশ করেছেন।
এখন মার্টিনের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান, এবং চিকিৎসা দল তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শীঘ্রই তিনি তীব্র সেবার ইউনিট থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবার ও সমর্থকরা তার সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছেন, এবং ভবিষ্যতে আবার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে তা একটি আনন্দের বিষয় হবে।



