ঢাকার র্যাব মিডিয়া সেন্টার, কারওয়ান বাজারে রবিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড‑১) শাহীদুর রহমান জানান, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার মূল সন্দেহভাজী ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই র্যাবের সকল প্রযোজ্য প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১২ তারিখ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে র্যাব দল আটজন সন্দেহভাজীকে গ্রেফতার করে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করে। এই আটজনের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজী ফয়সাল ও আলমগীর এখনও পলায়িত। র্যাবের প্রধান এই দুই সন্দেহভাজীর সন্ধানে প্রযুক্তিগত ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে, অবস্থান সনাক্ত হলে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হবে।
শাহীদুর রহমান উল্লেখ করেন, কোনো সন্দেহভাজী যদি দেশের বাইরে পলায়ন করে থাকে, তবুও তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বিদ্যমান। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
র্যাবের এই প্রচেষ্টা মূলত শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে, তাদেরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
প্রেস কনফারেন্সে র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, তদন্তে ব্যবহৃত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, স্যাটেলাইট ইমেজিং এবং ডেটা বিশ্লেষণ। পাশাপাশি, ম্যানুয়াল সূত্র হিসেবে তথ্যদাতাদের সাক্ষাৎকার ও 현장 পর্যবেক্ষণও চালু রয়েছে।
ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান নির্ধারণে র্যাবের দল আন্তর্জাতিক তথ্যভাণ্ডার, ভিসা রেকর্ড এবং ব্যাংকিং লেনদেনের বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে। এইসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য গন্তব্য দেশ চিহ্নিত করা হচ্ছে।
যদি সন্দেহভাজী বিদেশে পাওয়া যায়, র্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। র্যাবের প্রধান জানান, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইতিমধ্যে কয়েকটি কেসে সফল হয়েছে।
অধিকন্তু, র্যাবের দল স্থানীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য শেয়ার করছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা দ্রুত ফলাফল আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
শহীদ ওসমান হাদির পরিবার র্যাবের এই প্রতিশ্রুতি স্বাগত জানিয়েছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছে। পরিবার জোর দিয়ে বলেছেন, মূল সন্দেহভাজীর গ্রেফতারই এই মামলার সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন কোনো নতুন তথ্য বা সূত্র পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, জনসাধারণের সহযোগিতার জন্য হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে তথ্য প্রদানকারী গোপনীয়তা রক্ষিত থাকবে।
এই মামলায় র্যাবের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা উভয়ই স্পষ্ট। মূল সন্দেহভাজী ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান সনাক্ত হয়ে গ্রেফতার করা পর্যন্ত র্যাবের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



