নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার জন্য ৩২৫টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশ পাঠিয়েছে। এই নির্দেশনা ইসির পক্ষ থেকে রবিবার প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভোটকেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
ইসি ইতিমধ্যে দেশের সর্বত্র ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে, যা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩২৫টি এখনও বিদ্যুৎ সংযোগহীন, যা ভোটারদের স্বাভাবিক প্রবেশ ও ভোটদান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিদ্যুৎ সংযোগের ঘাটতি সম্পর্কে ইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকলে ভোটারদের তালিকাভুক্তি, ভোটের পাতা প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে। তাই, ইসি বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছে যে, নির্বাচনের পূর্বে এই ঘাটতি দূর করে সকল কেন্দ্রকে সম্পূর্ণভাবে চালু করা হোক।
চিঠি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং প্রয়োজনীয় কেব্লিং, জেনারেটর বা বিকল্প শক্তি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসির এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ভোটকেন্দ্রগুলোকে সময়মতো প্রস্তুত করা, যাতে নির্বাচনের দিন কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভোটগ্রহণে বিলম্ব না হয়।
বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আলো, সাউন্ড সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের সঠিক কাজের জন্য স্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে ইসির দ্রুত হস্তক্ষেপ নির্বাচন পরিচালনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর প্রকাশিত হয়নি, তবে ইসির চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে জানানো হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক দলগুলোও ইসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভোটকেন্দ্রের পূর্ণ প্রস্তুতির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা জোর দিয়েছে যে, ভোটারদের নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভোটদান নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সময়মতো সরবরাহ করা উচিত। কোনো কেন্দ্রেই বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হলে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সূচনা করবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত। তাই, ভোটকেন্দ্রের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি, সকল পক্ষের জন্য সমান গুরুত্ব বহন করে।
ইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হওয়ার পরই ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত পরিদর্শন করা হবে। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে, সকল কেন্দ্রই নির্বাচনের দিন সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় থাকবে।
সংক্ষেপে, ৩২৫টি ভোটকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগের ঘাটতি দূর করার জন্য ইসির ত্বরিত নির্দেশনা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য ভোটদান নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়তা করবে।



