যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে রবিবার একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের ৪৮টি জেলায় শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের প্রথম ত্রৈমাসিক কোর্সের সূচনা করা হয়। প্রকল্পের লক্ষ্য ১৮,০০০ শিক্ষিত যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা ডিজিটাল অর্থনীতির সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারে।
প্রশিক্ষণ প্রকল্পের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরির পেছনে ঘুরতে না হয়ে, ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের এই যুগে কাজের স্থান আর সময়ের সীমাবদ্ধতা আর নেই, ফলে দেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৫ম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার তিনটি ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩,৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে তিন মাসের কোর্সে ভর্তি করা হয়েছে। কোর্সের মেয়াদ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত, এবং অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের, কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন যুব ও যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং। অংশগ্রহণকারীরা অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ পাবেন, যাতে তারা বাস্তব কাজের পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। ড. আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ বাংলাদেশে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে এই মডেলকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে।
প্রকল্পের মোট বাজেট ২৯৯ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে সরবরাহ করা হবে। ২০২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ২৮,৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষতা প্রদান করা। ড. আসিফ নজরুল এই লক্ষ্যকে “অনবরত” হওয়া উচিত বলে জোর দেন এবং উল্লেখ করেন, ১৮,০০০ সংখ্যাটি যথেষ্ট নয়; প্রকৃতপক্ষে ১৮ লাখ প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদারদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ড. আসিফ নজরুল সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে প্রবেশের পথ খুলে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারবে, অথবা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকল্পভিত্তিক কাজ গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করবে।
প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ায় ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলা থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অংশগ্রহণকারীরা জানাচ্ছেন, ঘরে বসে কাজের সুযোগ পেয়ে তারা আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখছেন। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা এবং বিস্তৃতি নিশ্চিত হলে, দেশের মোট কর্মসংস্থান হার উন্নত হতে পারে এবং ডিজিটাল দক্ষতা সম্পন্ন যুবশক্তি গড়ে উঠবে।
প্রশিক্ষণ শেষের পর, অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যা তাদের ফ্রিল্যান্সিং বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, প্রশিক্ষণকালে অর্জিত দক্ষতা ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে বা বিদ্যমান ব্যবসায় ডিজিটাল রূপান্তর আনতে সক্ষম হবে।
ড. আসিফ নজরুলের মতে, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুধু কর্মসংস্থানই নয়, বরং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলোকে আরও বৃহত্তর স্কেলে চালু করা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি কোণায় তরুণদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়।
প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ফলাফল নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং পরবর্তী ব্যাচের পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। শেষ পর্যন্ত, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের যুবশক্তি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



