22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এক দিনে নয়টি কোম্পানি জেড শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এক দিনে নয়টি কোম্পানি জেড শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) রোববার থেকে একসাথে নয়টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারকে জেড শ্রেণিতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে শেয়ারবাজারে দুর্বল মানের কোম্পানির অনুপাত প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে।

নতুনভাবে জেড শ্রেণিতে নামকরণকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হল বেস্ট হোল্ডিংস, জেমিনি সি, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড, কাট্টলি টেক্সটাইল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি এবং ফুয়াং ফুড।

এই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে পাঁচটি পূর্বে ‘এ’ শ্রেণি এবং চারটি ‘বি’ শ্রেণি থেকে নামিয়ে জেডে স্থানান্তরিত হয়েছে। জেড শ্রেণিতে গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শেয়ারের জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়।

অধিকন্তু, জেড শ্রেণির শেয়ারগুলোর লেনদেন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সাধারণ শেয়ারের তুলনায় বেশি সময় লাগার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এই পরিবর্তন ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাজার নিয়ন্ত্রক বিএসইসির নির্ধারিত শর্তাবলীর কোনো একটি লঙ্ঘন করলে কোনো কোম্পানিকে জেড শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের ধারাবাহিক উৎপাদন বন্ধ, দুই বছর ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ না প্রদান, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, পুঞ্জীভূত লোকসান পুঁজি মূলধনের চেয়ে বেশি হওয়া এবং ঘোষিত লভ্যাংশের ৮০ শতাংশ সময়মতো বিতরণ না করা।

এই শর্তগুলোর যেকোনো একটি পূরণ না হলে ডিএসই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারকে জেড শ্রেণিতে স্থানান্তর করে। তবে ভবিষ্যতে শর্তগুলো পূরণ করলে কোম্পানিগুলো আবার উচ্চতর শ্রেণিতে ফিরে আসার সুযোগ পায়।

নতুন যোগ হওয়া নয়টি কোম্পানির ফলে ডিএসইতে জেড শ্রেণির মোট সংখ্যা ১১০ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে মোট ৩৬০টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই জেড শ্রেণিতে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জেড শ্রেণির কোম্পানির সংখ্যা বাড়লে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের পরিসর সংকুচিত হবে। ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বিনিয়োগকারীর জন্য বাজারের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।

দুর্বল মানের শেয়ারগুলোর বৃদ্ধি বাজারের সামগ্রিক আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের শ্রেণিবিন্যাসের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার লেনদেনের সময়সীমা বাড়ার ফলে ট্রেডিং খরচ ও ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাজারের তরলতা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যা বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে অতিরিক্ত অস্থিরতা যোগ করবে।

সারসংক্ষেপে, এক দিনে নয়টি প্রতিষ্ঠানের জেড শ্রেণিতে স্থানান্তর ডিএসইয়ের বাজার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। শেয়ারবাজারের স্বাস্থ্যের জন্য এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, বিশেষত ভবিষ্যতে শর্ত পূরণ করে পুনরায় উচ্চতর শ্রেণিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments