22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমার্কিন কংগ্রেসের জ্যাক ওচিনক্লেজ ভেনেজুয়েলা তেল অপারেশনকে রক্তপাত বললেন

মার্কিন কংগ্রেসের জ্যাক ওচিনক্লেজ ভেনেজুয়েলা তেল অপারেশনকে রক্তপাত বললেন

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জ্যাক ওচিনক্লেজ শনি দিন সিএনএনের সঙ্গে কথা বলে জানান, ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য তেল, মাদক পাচার নয়।

ওচিনক্লেজের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পেছনে তেলসম্পদকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে, আর মাদকের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার বিশ্বের সর্ববৃহৎ হিসেবে পরিচিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে অধিকাংশ অবৈধ পদার্থ ইউরোপীয় বাজারে প্রবাহিত হয়, আর যুক্তরাষ্ট্রের মুখ্য হুমকি হল চীনের উৎপাদিত ফেন্টানিল, কোকেিন নয়। এই যুক্তি দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ওচিনক্লেজ যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারকে কাজে লাগানোর জন্য শেভারন (শেভারন) সহ বেশ কয়েকটি আমেরিকান তেল সংস্থাকে সরকার অনুমোদন ও আর্থিক অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। তিনি এই অনুমতিগুলোকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওয়াশিংটন সরকার মাদুরো, তার স্ত্রী এবং ভেনেজুয়েলার কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের দায়ী করে দাবি করে। তবে ভেনেজুয়েলার সরকার এই অভিযোগগুলোকে সর্বদা অস্বীকার করে আসছে।

কংগ্রেসের এই মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতি সমন্বয় দেখা যায়, যেখানে ভেনেজুয়েলায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ এবং তেল উৎপাদন অনুমোদনের ধারাবাহিকতা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকে দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদুরোর সরকারকে লক্ষ্য করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলো ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র থেকে লাভের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, বৈধ চুক্তির মাধ্যমে তেল উত্তোলন শুরু করলে দেশীয় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা হবে।

তবে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের অস্থিরতা এবং তেল মূল্যের ওঠানামা এই পরিকল্পনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তাছাড়া, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে দুইটি মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে: তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে ভেনেজুয়েলা সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা নাকি মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

বিশ্বের অন্যান্য প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোও ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডারকে নজরে রাখছে, যা আন্তর্জাতিক শক্তি সমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে। তাই ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, গ্লোবাল শক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অবশেষে, ওচিনক্লেজের মন্তব্য ভেনেজুয়েলা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের নতুন দিক উন্মোচন করে। তেলসম্পদের ওপর জোর দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments