শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলা ভূখণ্ডে আক্রমণ চালিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর, দেশের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদে রাস্তায় মানুষ নেমে এসেছে। ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন ও মিনিয়াপোলিসসহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে স্লোগান ও ব্যানার তুলে ধরেছেন।
বিক্ষোভকারীরা মাদুরোর গ্রেফতারকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে, ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। কিছু অংশগ্রহণকারী ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকাও হাতে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন, যা দেশের স্বাধীনতার প্রতি তাদের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।
প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ব্যানারগুলোতে “যুদ্ধবিরোধী” ও “শান্তি” শব্দগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বানকে তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীরা একত্রে নীরবতা বজায় রেখে, কখনও কখনও চিৎকার করে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তবে কোনো সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনি-রাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের গ্রেফতার সম্পর্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলা এখন সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত এই তত্ত্বাবধান চালিয়ে যাবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কিছু গোষ্ঠী সরকারকে সমর্থন করে, অন্যরা হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করে। এই মতবিরোধই বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিক্ষোভের সময় কিছু অংশগ্রহণকারী ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার জনগণের মানবিক সংকট বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বহু শহরে বিক্ষোভের আয়োজকরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ উপস্থিতি থাকলেও, কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় কিছু অংশগ্রহণকারী সামাজিক মিডিয়ায় ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে, যা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করছে। এই ডিজিটাল প্রচার মাধ্যমের ব্যবহার বিক্ষোভকে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ব্রেকিং নিউজ অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও মাদুরোর গ্রেফতার আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর কাছ থেকে সমালোচনা পেয়েছে। তারা হস্তক্ষেপের বৈধতা ও মানবিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে।
বিক্ষোভার পরবর্তী দিনগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে একই রকম প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন শহরে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনগুলো এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বিক্ষোভগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিদেশি হস্তক্ষেপের নীতি নিয়ে জনমত গঠন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিদেশি মিশনে সীমাবদ্ধতা আরোপের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে, সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিক্ষোভগুলোকে সীমিত ও শান্তিপূর্ণ রাখার চেষ্টা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্টের গ্রেফতার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক প্রশাসন ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আন্দোলন দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও মানবিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যা পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে।



