20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯,১১১ জন নিহত, ১৪,৮১২ জন আহত

২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯,১১১ জন নিহত, ১৪,৮১২ জন আহত

ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গত বছরের সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। সমিতি জানায়, ২০২৫ সালে মোট ৬,৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৯,১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৪,৮১২ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মৃত্যুর হার ৫.৭৯ শতাংশ এবং আঘাতপ্রাপ্তের সংখ্যা ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেই বছরে মোট ৬,৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই সময়ে ৮,৫৪৩ জন নিহত এবং ১২,৬০৮ জন আহত হয়েছিলেন। ফলে গত বছর তুলনায় মোট দুর্ঘটনা, মৃত্যুর সংখ্যা এবং আঘাতের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সচিব সাধারণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্যগুলো প্রকাশের সময় উল্লেখ করেন, সরকার পরিবর্তনের পরেও সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা সংক্রান্ত নীতি যথাযথভাবে পরিবর্তিত হয়নি। তিনি বলেন, নীতিগত অগ্রগতি না হওয়ায় সড়কে মানুষের কষ্ট বাড়ছে।

চৌধুরী আরও জানান, চলাচলের জ্যাম এবং গাড়ি চালকদের দ্বারা গৃহীত অতিরিক্ত ফি সংগ্রহের ফলে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া আবার বাড়ছে। এই আর্থিক চাপের ফলে সড়কে নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি দাবি করেন, অস্থায়ী সরকারের সড়ক পরিবহন খাতের সংস্কার ব্যর্থতা মানুষের দৈনন্দিন ভ্রমণ সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলেছে। ফলস্বরূপ, সড়ক নিরাপত্তা এবং ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়মের শিকার জনগণকে এখনো ঝুঁকির মুখে রাখা হয়েছে।

সমিতি উল্লেখ করেছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ফলে দেশের বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ষাট হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতি শুধুমাত্র মানবিক দিকেই নয়, অর্থনৈতিক দিকেও বড় প্রভাব ফেলছে।

চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ক্ষতি রোধে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। তিনি সরকারের কাছ থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎপর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

রিজওয়ানা হাসানও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, যদি খেলাকে তার নির্ধারিত মাঠে রাখা হতো তবে তা ভালো হতো, তবে দুর্ভাগ্যবশত খেলায় রাজনীতি প্রবেশ করেছে। তার এই বক্তব্য সড়ক নিরাপত্তা ও নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে। তারা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছে।

এছাড়া, সমিতি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ চালনার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো দেশের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত এবং কার্যকরী প্রতিক্রিয়া দেশের জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments