20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে দুই যুবক ও নিষিদ্ধ মদসহ মোটরসাইকেল আটক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে দুই যুবক ও নিষিদ্ধ মদসহ মোটরসাইকেল আটক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় র‌্যাব-১৪ দলের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান শেষে দুই যুবক, মোট ৩৬৯ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মদ, একটি মোটরসাইকেল এবং চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়েছে। আটকটি রবিবার ৪ জানুয়ারি ভোর পাঁচটায় ত্রিশ মিনিটে নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী মিশন এলাকার বটতলা সোয়াইবা হোটেল ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের পূর্ব পাশের সড়ক থেকে সম্পন্ন হয়।

অভিযানটি র‌্যাব-১৪ দলের কর্মকর্তা ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর আসিফ আল রাজেকের তত্ত্বাবধানে চালানো হয়। তিনি জানিয়েছেন, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে মাদক, নিষিদ্ধ মদ এবং অবৈধ যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত সন্দেহে দলটি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ ৩৬৯ বোতল, একটি চাইনিজ কুড়াল এবং একটি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত।

মদজাত পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ষোলো লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে, কুড়ালসহ মোটরসাইকেলের মূল্য প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। এই মূল্যায়নগুলো স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রাথমিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

আটকৃত দুই যুবকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমজন হলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. শামিম আহম্মেদ, বয়স বিশ বছর। দ্বিতীয়জন হলেন সম্চুড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ছামিদুল ইসলাম সাব্বির, বয়স উনিশ বছর। উভয়কেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়।

মেজর আসিফ আল রাজেক উল্লেখ করেন, “গোপন সূত্রের ভিত্তিতে চালিত এই অভিযান আমাদের সীমান্তে অবৈধ মদ ও মাদকের প্রবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তিনি আরও বলেন, “আটকৃত সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বক্তব্যটি র‌্যাব-১৪ দলের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা তুলে ধরে।

গ্রেফতারকৃতদের নালিতাবাড়ী থানা-তে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মদ পাচার, অবৈধ মদ সংরক্ষণ ও পরিবহন, এবং অবৈধ যন্ত্রপাতি ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

শেরপুর সীমান্তে অবৈধ মদ পাচার একটি চলমান সমস্যা, এবং র‌্যাব-১৪ দল নিয়মিতভাবে এমন গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে আসছে। পূর্বে একই অঞ্চলে অনুরূপ জব্দের ঘটনা ঘটেছে, যা সীমান্ত পারাপারের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

আটকৃত সামগ্রীর বিশদ পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ পরবর্তী তদন্তের অংশ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জব্দকৃত মদের উৎস, সরবরাহ চেইন এবং সম্ভাব্য সহায়ক গোষ্ঠীর সন্ধান চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে, চাইনিজ কুড়াল ও মোটরসাইকেলের মালিকানা ও ব্যবহার সম্পর্কেও তদন্ত চলবে।

আইনি দিক থেকে, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে মদ পাচার আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ দণ্ড নির্ধারণ করা হবে। এই ধরনের মামলায় সাধারণত অপরাধের গুরত্ব, জব্দকৃত সামগ্রীর মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর পূর্ব অপরাধের রেকর্ড বিবেচনা করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে এই সফল অভিযান সীমান্তে অবৈধ মদ প্রবাহ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। র‌্যাব-১৪ দল ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments