19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে দুই যুবক ও নিষিদ্ধ মদ জব্দ, র‍্যাব-১৪ গোষ্ঠী অভিযান...

শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে দুই যুবক ও নিষিদ্ধ মদ জব্দ, র‍্যাব-১৪ গোষ্ঠী অভিযান চালায়

শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে র‍্যাব-১৪ গোষ্ঠী রাত্রিকালীন অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে আটক করেছে, যাদের সঙ্গে ৩৬৯ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মদ, একটি মোটরসাইকেল এবং চীনা কুড়াল পাওয়া গিয়েছে। এই ধরা পড়া অপরাধী এবং জব্দকৃত সামগ্রী দেশের সীমান্তে অবৈধ মদ প্রবেশের একটি বৃহৎ জালকে প্রকাশ করে।

অটকগুলো ঘটেছে রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ভোরের প্রায় ৫টা ৩০ মিনিটে নালিতাবাড়ী সীমান্ত সড়কের বারোমারী মিশন এলাকার বটতলা সোয়াইবা হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারের পূর্ব পাশের রাস্তায়। রাব-১৪ দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গৃহীত এই অভিযানটি দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।

অটকপ্রাপ্ত দুইজনের নাম হল নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা গ্রাম থেকে ২০ বছর বয়সী মো. শামিম আহম্মেদ এবং একই উপজেলার সম্চুড়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী মো. ছামিদুল ইসলাম সাব্বির। উভয়ই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।

র‍্যাব-১৪ এর কর্মকর্তা ও কোম্পানি কমান্ডার মেজর আসিফ আল রাজেক জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত এই অভিযান মাদক, নিষিদ্ধ মদ এবং অবৈধ যন্ত্রপাতি ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্তে অবৈধ মদ প্রবাহ রোধে নিয়মিত গোয়েন্দা সংগ্রহ ও তদারকি করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে মোট ৩৬৯ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় নিষিদ্ধ মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ষোলো লাখ টাকার সমান। এই মদগুলো বাংলাদেশের মদ নিষেধাজ্ঞা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দেশের অভ্যন্তরে বিক্রি করা হলে কঠোর শাস্তি আরোপিত হয়।

সাথে জব্দ করা হয়েছে একটি চীনা কুড়াল এবং একটি মোটরসাইকেল; মোটরসাইকেলের মূল্য প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার হিসাব করা হয়েছে। কুড়ালটি সম্ভবত মাদক প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হতে পারে, তাই তা অতিরিক্ত প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জব্দকৃত সামগ্রী এবং আটকদ্বয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ রাব-১৪ দল সংরক্ষণ করে নালিতাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করেছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। থানা কর্মকর্তারা জব্দকৃত মদ ও যন্ত্রপাতি যথাযথ চেইন অফ কাস্টডি বজায় রেখে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠাবে।

নালিতাবাড়ী থানা অনুযায়ী, আটকদ্বয়কে এখনো কোনো অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আরোপ করা হয়নি, তবে মদ পাচার, অবৈধ মদ বিক্রয় এবং মাদক সংক্রান্ত আইনের অধীনে কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক হেফাজত আদেশ জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত শোনার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

ভারতীয় নিষিদ্ধ মদ দেশের সীমান্তে প্রবেশ করানো বেআইনি, এবং এ ধরনের অপরাধে ১০০ টনের বেশি শাস্তি, জেল শাস্তি এবং সম্পত্তি জব্দের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ মদ নিষেধাজ্ঞা আইন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে এই ধরনের অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

রাব-১৪ গোষ্ঠী পূর্বে একই সীমান্তে অনুরূপ অপারেশন চালিয়েছে, যা দেশের মদ ও মাদক পাচার রোধে সরকারের প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে। পূর্বের সফল ধরা-পড়া মামলাগুলো এই অঞ্চলে অবৈধ ব্যবসা নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি কমাতে সহায়তা করেছে।

আইনগত দিক থেকে, আটকদ্বয়ের বিরুদ্ধে মদ পাচার, অবৈধ মদ বিক্রয় এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হতে পারে; আদালতে তাদের দোষ প্রমাণ হলে কঠোর শাস্তি আরোপিত হবে। এছাড়া, জব্দকৃত মোটরসাইকেল ও কুড়ালও সম্পত্তি জব্দের আওতায় থাকবে।

বর্তমানে, রাব-১৪ দল এবং নালিতাবাড়ী থানার সমন্বয়ে তদন্ত চলমান, যাতে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক সনাক্ত করা যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments