বিবিসির রবিবারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্যার কীর্স স্টার্মার আগামী বছরও দেশের শীর্ষে থাকবেন বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি নেতৃত্বের ওপর উত্থাপিত সন্দেহকে খারিজ করে বলেছেন, মে মাসে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল তার সরকারকে রেফারেন্ডাম হিসেবে বিবেচিত হবে না।
স্টার্মার উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট পেয়ে দেশের পরিবর্তনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এই ম্যান্ডেটকে সঠিকভাবে পালন করা তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তার কাজের ফলাফল—যে বিষয়গুলো মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দেখে তাকে মূল্যায়ন করবে।
নববর্ষের প্রথম দিনে স্টার্মার একটি বার্তা দিয়ে দেশের পতন ও বিভাজনকে পরাজিত করার প্রতিশ্রুতি জানান এবং ২০২৬ সালে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। এই বার্তায় তিনি বিশেষভাবে জীবনের খরচ বাড়ার উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে, জনগণের মঙ্গলের জন্য কোনো ধীরগতি না রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সংসদ ক্রিসমাস বিরতি শেষ করে সোমবার ফিরে আসবে এবং পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ের আয়োজন করবেন। মিটিংয়ে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানাবেন, দেশের বিভিন্ন পরিবার এখনও জীবনের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সরকার তাদের জন্য জীবনমান উন্নত করার লড়াইয়ে কোনো বিরতি দেবে না।
স্টার্মার অতীত সরকারের ধারাবাহিক নেতৃত্ব পরিবর্তন ও দলীয় গঠনকে বিশৃঙ্খলার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে, এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পূর্বের সরকারে ধারাবাহিক পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভদের নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ ছিল এবং তা দেশের স্বার্থের বিরোধী।
এখন তিনি নিশ্চিত যে, তিনি ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই পদে অব্যাহত থাকবেন এবং যদি এই দীর্ঘমেয়াদী সাক্ষাৎকারের প্রভাব ইতিবাচক হয়, তবে আগামী জানুয়ারিতে আবার একই ফরম্যাটে আলোচনার সুযোগ নিতে চান।
২০২৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, তীব্র মন্দা এবং জরুরি জরিপে কম ভোটের হারসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও স্টার্মার নেতৃত্বের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের সংকেত না পেয়ে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের নীতি ও কর্মসূচি জনগণের মঙ্গলের জন্যই নির্ধারিত, তাই কোনো অস্থিরতা বা নেতৃত্বের পরিবর্তন না করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
পরবর্তী কয়েক মাসে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্টার্মার এই সাক্ষাৎকারে উল্লেখিত পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল চাবিকাঠি হবে।



