28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানে আটক যুক্তরাজ্যের দম্পতির পরিবার ৭০,০০০ স্বাক্ষরের পিটিশন ডাউনিং স্ট্রিটে জমা দিল

ইরানে আটক যুক্তরাজ্যের দম্পতির পরিবার ৭০,০০০ স্বাক্ষরের পিটিশন ডাউনিং স্ট্রিটে জমা দিল

ইরানের টেহরানে ইভিন কারাগারে আটক যুক্তরাজ্যের লিন্ডসে ও ক্রেগ ফোরম্যানের পরিবার ডাউনিং স্ট্রিটে ৭০,০০০ স্বাক্ষরের পিটিশন উপস্থাপন করেছে, যাতে সরকারকে তাদের মুক্তির জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়। ফোরম্যান দম্পতি জানুয়ারি ২০২৫-এ বিশ্বব্যাপী মোটরসাইকেল সফরের সময় ইরানে গ্রেফতার হন এবং পরে গুপ্তচরবৃত্তি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তারা ইস্ট সাসেক্সের বাসিন্দা এবং বর্তমানে তেহরানের ইভিন কারাগারে বন্দি, যেখানে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন।

ফোরম্যানের পুত্র জো বেনেট, ফোকস্টোন, কেন্টের বাসিন্দা, পিটিশন জমা দেওয়ার সময় বলেন, “আমি চাই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুক তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনতে।” তিনি বলেন, দম্পতি “বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোর একটিতে” মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে রয়েছে। বেনেটের সঙ্গে ডাউনিং স্ট্রিটে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বন্দি আনুসেহ আশুরি এবং রিচার্ড রাটক্লিফ, যিনি দুইবার উপবাসের মাধ্যমে তার স্ত্রী নাজানিন জাগরি-রাটক্লিফের মুক্তি চেয়েছিলেন।

পিটিশন জমা দেওয়ার সময় সমর্থকরা “স্ট্যান্ড বাই মি” গানের সুরে একসাথে গাইছিলেন, যা দম্পতির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বেনেট উল্লেখ করেন, কারাগারে প্রতিদিনের জীবন তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষয়কারী প্রভাব ফেলে এবং তারা ব্রিটিশ সরকারের জন্য কোনো গুপ্তচর নয়।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও একই দিনে প্রকাশিত হয়। গত রবিবার মুদ্রা অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে তেহরানে প্রতিবাদ শুরু হয়, যেখানে রিয়াল ডলার বিপরীতে রেকর্ড নিম্ন মানে পৌঁছায়। সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সতর্কতা জানিয়ে বলেন, যদি ইরান “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের সহিংসভাবে হত্যা” করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “তাদের রক্ষা” করতে প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই মন্তব্যকে “অবিবেচক ও বিপজ্জনক” বলে সমালোচনা করেন। বেনেট ট্রাম্পের সতর্কতাকে “চিন্তাজনক” বলে উল্লেখ করে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বেনেটের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে ফোরম্যান দম্পতিকে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, “তাদেরকে এই সম্ভাবনার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে,” যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের সময় তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বন্দি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়ে বেনেট জানান, দম্পতির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং কারাগারের কঠোর পরিবেশ তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে ক্ষয় করছে। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেন, যেন তারা আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেয় এবং ফোরম্যান দম্পতির মানবিক অবস্থা উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া একসাথে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাজ্য সরকার পূর্বে ইরানে আটক নাগরিকদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করেছে, তবে ফোরম্যান দম্পতির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি সমঝোতা প্রকাশিত হয়নি। বেনেটের পিটিশন এবং সমর্থকদের প্রকাশ্য প্রতিবাদ ইরান-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বর্তমান সংবেদনশীল মুহূর্তে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ইরানের কারাগার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বন্দীদের মানবিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সরকার যদিও দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ বজায় রেখেছে, তবু আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, ফোরম্যান দম্পতির পরিবার ডাউনিং স্ট্রিটে বৃহৎ পিটিশন জমা দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে তাদের মুক্তির জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে, একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক গতিবিধি এই বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments