চট্টগ্রাম শহরের বাংলাবাজার এলাকায় আজ রাত্রি ১১ টার কাছাকাছি কর্ণফুলী নদীর জুট র্যালি ঘাটের নিকটে ৯০০ টন ইস্পাত স্ক্র্যাপ বহনকারী লাইটার জাহাজ MV Titu‑8 আংশিকভাবে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রিভার পুলিশ জানায়, জাহাজটি গাঁটের কাজের সময় অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নীচের অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়, ফলে জাহাজে পানি ঢোকে।
MV Titu‑8, আবুল খায়ের ক্যারিয়ার্সের মালিকানাধীন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বাইরের অ্যানকরে লোড করা ইস্পাত স্ক্র্যাপকে বাংলাবাজারে নামিয়ে দেওয়ার জন্য গন্তব্যে পৌঁছেছিল। জাহাজের মোট গৃহীত কার্গো ৯০০ টন, যা স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহের অংশ।
রিপোর্ট অনুসারে, জাহাজটি জুট র্যালি ঘাটে বন্দর করার সময় অন্য জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে নীচের অংশে ফাটল দেখা দেয়। ফাটলটি দ্রুত বড় হয়ে জাহাজে পানি প্রবেশ করায়, ফলে রাতের অর্ধরাতের পর উচ্চ জোয়ারের সময় জাহাজের কিছু অংশ পানির নিচে ডুবে যায়।
সাব‑ইনস্পেক্টর মো. আরিফুল ইসলাম, সদরঘাট রিভার পুলিশ স্টেশনের, জানান, জাহাজের ক্রু ১৩ জন নিরাপদে নৌকা ও ত্রাণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে জাহাজ থেকে নেমে গেছেন। কোনো আঘাতের রিপোর্ট না থাকলেও, জাহাজের আংশিক ডুবে যাওয়া এবং উচ্চ জোয়ারের প্রভাবের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নৌকা চলাচল সীমিত হয়েছে।
ক্যাপ্টেন কাবির আহমেদ জানান, জাহাজে পানি ঢোকার পর তারা দ্রুত জাহাজকে ঘাটে সুরক্ষিত করে এবং ক্রেনের সাহায্যে ইস্পাত স্ক্র্যাপের লোডিং-আনলোডিং কাজ শুরু করে। উচ্চ জোয়ারের সময় জাহাজের কিছু অংশ পানির নিচে গিয়ে সাময়িকভাবে ডুবে যায়, তবে বড় পরিমাণে স্ক্র্যাপ সরিয়ে নেয়ার পর জাহাজের স্তর পুনরায় উপরে উঠে আসে।
আবুল খায়ের ক্যারিয়ার্সের একটি কর্মকর্তা জানান, স্ক্র্যাপের আনলোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর জাহাজটি তাড়াতাড়ি তলিয়ে নেওয়া হবে এবং নিকটস্থ ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য পাঠানো হবে। তদুপরি, জাহাজের ক্ষতি মূল্যায়ন ও পুনরুদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কর্মী ইতিমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইস্পাত স্ক্র্যাপের সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। ইস্পাত শিল্পে স্ক্র্যাপের চাহিদা উচ্চ থাকায়, ডেলিভারির বিলম্ব স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল সংগ্রহে অতিরিক্ত খরচ বাড়াতে পারে। এছাড়া, বন্দর কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হতে পারে, যা লোডিং‑আনলোডিং সময়সূচি ও টার্নঅ্যারাউন্ড সময় বাড়াতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইস্পাত স্ক্র্যাপের সরবরাহে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। যদিও বর্তমান সময়ে স্ক্র্যাপের স্টক পর্যাপ্ত, তবে ধারাবাহিকভাবে ঘটমান দুর্ঘটনা সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বল করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ইস্পাতের বিক্রয়মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর প্রশাসন ইতিমধ্যে জাহাজের পুনরুদ্ধার ও স্ক্র্যাপের নিরাপদ হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ক্রেন ও ত্রাণ দলকে মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপগুলো বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, MV Titu‑8 এর আংশিক ডুবে যাওয়া ঘটনা ইস্পাত স্ক্র্যাপের সরবরাহ চেইনে সাময়িক ঝুঁকি তৈরি করেছে, তবে দ্রুত ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কাজের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব। ভবিষ্যতে সমজাতীয় দুর্ঘটনা রোধে বন্দর নিরাপত্তা প্রোটোকল ও জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি জরুরি।



