বিসিবি রবিবার দুপুরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশি দল ঘোষণা করেছে। কিপার‑ব্যাটসম্যান জাকির আলি স্কোয়াডের বাইরে থাকলেও নুরুল হাসান সোহান একই পজিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্কোয়াডের অন্যান্য পরিবর্তনেও কিছু নাম পুনরায় দেখা যাবে।
স্কোয়াডের তালিকায় আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নাম বাদ পড়েছে—মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি শেষ সিরিজের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ম্যাচে সুযোগ পাননি। তার পরিবর্তে তাসকিন আহমেদকে পুনরায় ডাকা হয়েছে, যিনি পূর্বে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিসিবি জানিয়েছে যে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই স্কোয়াডে পরিবর্তন আনা যাবে। এরপরের পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র চোটের ভিত্তিতে এবং টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন পেলে সম্ভব হবে। এই শর্তাবলী দলকে শেষ মুহূর্তে কৌশলগত সমন্বয় করার সুযোগ দেবে।
জাকির আলির অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৬টি T20 ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, যা তানজিদ হাসানের (২৭) পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটিং ফর্ম ভালো না থাকলেও নির্বাচক ও ম্যানেজমেন্টের আস্থা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে স্কোয়াডে স্থান না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লিটন দাসের চোটের পর, সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ এবং আফগানিস্তান সিরিজে জাকির আলি দলকে পাঁচটি T20 ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে তার ক্যারিয়ার শুরুতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ধারাবাহিক রান সংগ্রহে ব্যর্থ। ২৭ বছর বয়সের এই ব্যাটসম্যানের শেষ ১৪টি T20-এ কোনো পঞ্চাশের অর্ধেকও নেই।
বিশেষ করে শেষ নয়টি ইনিংসে চারবার আউট হয়ে তিনি ডাবল ডিগিটে পৌঁছাতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডের সিরিজের প্রথম T20-এ তার পারফরম্যান্সের পরই তিনি একাদশ স্থান থেকে বাদ পড়েন। একই সময়ে BPL-এ তিনটি ম্যাচে মোট ৪১ রান সংগ্রহের পরেও তার অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে যায়।
নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিং ফর্মও তেমন উজ্জ্বল নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুই সিরিজে তিনটি ম্যাচে তার স্কোর যথাক্রমে ৫, ১ এবং ৫ রান। BPL-এ তিনটি ম্যাচে মাত্র একবার ব্যাট করে ৬ রান করেন। তবু তিনি স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন।
সোহানের T20 ক্যারিয়ার ৫৫ ম্যাচে বিস্তৃত, যেখানে তার গড় ১৮.৩৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৯.৪৯। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তার অবদান সীমিত, তবে তার অভিজ্ঞতা ও দলের ব্যাকআপ হিসেবে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।
মাহিদুল অঙ্কন স্কোয়াডে থাকলেও কোনো ম্যাচে সুযোগ পাননি, ফলে তার বাদ দেওয়া কোনো পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ছাড়াই করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দলকে দ্রুত পেস আক্রমণ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
পেস আক্রমণকে আরও মজবুত করতে তাসকিন আহমেদকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিরিজের সময় অভিজ্ঞ পেসার আবু ধাবি T20 লিগে ব্যস্ত ছিলেন, ফলে তিনি আইএল T20-তে অংশগ্রহণের পর ফিরে আসতে পারেননি। তাসকিনের অভিজ্ঞতা পেসিং ইউনিটে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
দলে পেসিং অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিনের পাশাপাশি পাঁচজন পেসার রয়েছে। রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ এবং শেখ মেহেদি হাসান এই গোষ্ঠীর অংশ। এই পেসাররা টার্নওভার, গতি এবং ভ্যারিয়েশন দিয়ে দলের ব্যাটিং লাইনের ওপর চাপ বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, স্কোয়াডের পরিবর্তনগুলো ব্যাটিং ও পেসিং উভয় দিকেই ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। জাকির আলি ও মাহিদুল অঙ্কনের অনুপস্থিতি নতুন মুখের সুযোগ তৈরি করেছে, আর সোহান ও তাসকিনের অন্তর্ভুক্তি দলকে অভিজ্ঞতা ও বিকল্পের দিক থেকে সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তী ম্যাচে এই নতুন গঠন কতটা কার্যকর হবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



