বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের দল চূড়ান্ত করে প্রকাশ করেছে। এই ঘোষণার সময় ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি তীব্রতা পেয়েছিল, যা মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে অপ্রত্যাশিত মুক্তির পর বাড়ে।
দলটির নেতৃত্বে রয়েছে লিটন দাশ, যাকে ক্যাপ্টেন হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। সহ-ধারক হিসেবে সাইফ হাসানকে বাছাই করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দলটি বলার উপর বেশি জোর দিয়েছে, ব্যাটিং বিকল্পগুলো তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে গেছে।
পেসার দলে মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান ভূমিকা পালন করবেন; তিনি পাঁচজনের পেসার আক্রমণের অগ্রভাগে থাকবেন। এই প্যাকেজে অল-রাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, যাকে ব্যাটিং ও বোলিং দুটোই সমর্থন করতে আশা করা হচ্ছে।
স্পিন বিভাগে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ এবং মাহেদি হাসান একত্রে ত্রয়ী গঠন করবে। রাইট-আর্মড লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের সঙ্গে বামহাতের স্পিনার নাসুম আহমেদের সমন্বয় এবং অফ-স্পিনার মাহেদি হাসানের অভিজ্ঞতা দলকে বৈচিত্র্যময় ঘূর্ণায়মান বিকল্প দেবে।
উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জাকার আলি দীর্ঘ সময়ের ব্যাটিং স্লিপের পর দল থেকে বাদ পড়েছেন। উইকেটকিপিং দায়িত্ব নুরুল হাসান সোহান অথবা পারভেজ হোসেন এমন নেবে, যেখানে এমনকে নম্বর চার ব্যাটিং অবস্থানে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাছাই করা খেলোয়াড়দের তালিকা নিম্নরূপ: লিটন দাশ (ক্যাপ্টেন), সাইফ হাসান (সহ-ধারক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন এমন, তাওহিদ হ্রিদয়, শামিম হাসান, নুরুল হাসান সোহান, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শোরিফুল ইসলাম।
এই নির্বাচনটি দেশের ভক্তদের কাছ থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি সত্ত্বেও, বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি এখন প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেছে, যাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি হবে, এবং বাংলাদেশ প্রথমে কোন দলের মুখোমুখি হবে তা এখনও নির্ধারিত। তবে দলটি জানে যে প্রতিপক্ষের শক্তি যাই হোক না কেন, তাদের বলার গুণগত মানই মূল চাবিকাঠি হবে।
বাছাই করা পেসার ও স্পিনারদের সমন্বয়কে দলটির প্রধান শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ব্যাটিং লাইনআপে কিছু ফাঁক রয়েছে, তবে লিটন দাশের নেতৃত্বে শীর্ষ ক্রমে থাকা ব্যাটসম্যানদের ওপর নির্ভর করে স্কোর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিসিবি এই দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও তরুণ উদ্যমের মিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে বিভিন্ন লিগে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের মূল্য প্রমাণ করেছেন, যা টুর্নামেন্টে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দলটি এখন প্রশিক্ষণ শিবিরে মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে টি২০ ফরম্যাটের দ্রুতগতির চাহিদা মেটাতে পারে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে বলার গতি, স্পিনের বৈচিত্র্য এবং ব্যাটিংয়ের স্থিতিশীলতা একসাথে কাজ করবে, এটাই বিসিবি’র মূল লক্ষ্য।



