মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর একই ধরনের পদক্ষেপের হুমকি মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-সন্ত্রাস বিরোধী নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বললেন, যদি মেক্সিকো, কলম্বিয়া বা কিউবায় মাদক-সন্ত্রাসের ঝুঁকি থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অগ্রাহ্য করা যাবে না।
মাদুরোর গ্রেফতারের সময় ট্রাম্পের মুখে মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পূর্বে বহুবার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠে। তিনি যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলায় মাদক-সন্ত্রাসের বিস্তার রোধে বড় পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল এবং এখনই তা বাস্তবায়িত হয়েছে। একই যুক্তি মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার ক্ষেত্রে প্রয়োগের ইঙ্গিত তিনি দেন।
মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শরণার্থী প্রবাহ এবং সীমানা নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প মেক্সিকো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবি করে, তাকে “ভাল মানুষ” বলে প্রশংসা করেন এবং মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে উল্লেখ করেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্যকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং ভেনেজুয়েলা অভিযানের নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে ট্রাম্প “মাদক সম্রাট” বলে সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের মতে, পেট্রোর দেশের মধ্যে কোকেন উৎপাদনের বড় কারখানা রয়েছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে।
কিউবার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ না থাকলেও, তিনি একই রকম হুমকি প্রকাশ করে দেশটিকেও সতর্ক করেছেন। তার বক্তব্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-সন্ত্রাস বিরোধী নীতি কোনো ভূগোলিক সীমা অতিক্রম করে না এবং প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ওপর চীন, রাশিয়া ও ইরান তীব্র সমালোচনা জানিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। এই আন্তর্জাতিক বিরোধের মধ্যে ট্রাম্পের মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার প্রতি হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের মাদক-সন্ত্রাস বিরোধী নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলকে পুনরায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার সরকারগুলো ইতিমধ্যে এই ধরনের হুমকিকে অগ্রাহ্য করার সংকেত দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাড়াচ্ছে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের হুমকি কি বাস্তবায়িত হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করবে। মাদক-সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা সম্ভবত পরবর্তী আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা এবং মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। ট্রাম্পের হুমকি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া পরবর্তী সপ্তাহে কূটনৈতিক মঞ্চে কীভাবে বিকশিত হবে, তা নজরে থাকবে।



