সচিবালয়ের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রবিবার গৃহীত এক বিবৃতি অনুযায়ী, আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) বাংলাদেশের সম্প্রচার স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মূল কারণ হল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাবের পেছনে থাকা আইনি ও নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সুস্পষ্টভাবে যাচাই করা।
বৈঠকটি বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েটের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক, আর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এ সময় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত সকলকে আইপিএল সম্প্রচার সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আইপিএল থেকে বাংলাদেশের দ্রুতগতির পিচার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া। এই সিদ্ধান্তের পর আইপিএল সংক্রান্ত আইন উপদেষ্টা সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাব দেন, যা সরকারকে আইপিএলকে দেশের টেলিভিশনে দেখানো থেকে বিরত রাখার সম্ভাবনা তৈরি করে। রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত রয়েছে, যা ক্রীড়া ক্ষেত্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “যদি আমরা খেলাটিকে শুধুমাত্র ক্রীড়া হিসেবে রাখতে পারতাম, তবে পরিস্থিতি অনেক সহজ হতো। দুর্ভাগ্যবশত, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা খেলায় প্রবেশ করেছে।” তিনি এ কথায় স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন যে, ক্রীড়া ও রাজনীতির মিশ্রণ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার এবং দর্শকদের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিনিময়ের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ-ভারত বা বাংলাদেশ-নেপাল মত দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, ক্রীড়া ইভেন্টগুলো ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া এই নীতির বিপরীত দিককে প্রকাশ করে, যা জনমতকে আঘাত করে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রীড়া প্রেমিকদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে। রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, “একজন দেশের প্রতিনিধিকে রাজনৈতিক যুক্তিতে বাদ দেওয়া হলে, সাধারণ জনগণের মধ্যে আঘাতের অনুভূতি জাগে এবং তা সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।” তিনি এ কথায় দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের মনোভাবের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেন।
এধরনের পরিস্থিতিতে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে, এজন্য আইনগত ভিত্তি ও প্রক্রিয়ার যথাযথ পর্যালোচনা অপরিহার্য। রিজওয়ানা হাসান জানান, “আমরা এখন পর্যন্ত আইনগত দিকগুলো বিশদভাবে যাচাই করছি এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেব।” এই প্রক্রিয়ার শেষে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে সরকারী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বৈঠকের শেষে উপস্থিত সকলকে জানানো হয় যে, আইপিএল সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে, যাতে দেশের ক্রীড়া পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে তা নির্ভর করবে আইনগত বিশ্লেষণ ও জনমত বিবেচনার উপর।



