18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচট্টগ্রাম‑৯-এ জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, চট্টগ্রাম‑৮-এ দুই প্রার্থীরও আবেদন প্রত্যাখ্যান

চট্টগ্রাম‑৯-এ জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, চট্টগ্রাম‑৮-এ দুই প্রার্থীরও আবেদন প্রত্যাখ্যান

চট্টগ্রাম‑৯ (কোতোয়ালি‑বাকলিয়া) আসনের জামায়াত‑ইসলামীর প্রার্থী এ.কে.এম. ফজলুল হককে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন আজ রাতিপূর্বে মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্দেশ দেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অবস্থা স্পষ্ট না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফজলুল হক রিটার্নিং অফিসে জমা দেওয়া হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন এবং ২৮ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব ত্যাগের তারিখ উল্লেখ করেন। তবে রিটার্নিং অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ত্যাগের প্রমাণস্বরূপ কোনো নথি তার পক্ষে উপস্থাপন করা হয়নি। এই ঘাটতি মনোনয়নপত্র বাতিলের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাতিলের ঘোষণার পর ফজলুল হক রিটার্নিং অফিসে উপস্থিত থেকে জানান, তিনি ইতিমধ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার বিষয়টি নিয়ে শুনানির আবেদন করবেন। তিনি নিজের প্রার্থিতার পুনর্বিবেচনা এবং মনোনয়নপত্র পুনরায় বৈধ ঘোষণার জন্য আবেদন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জিয়াউদ্দীন জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বের অবস্থা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ফজলুল হকের প্রার্থিতা স্থগিত থাকবে। প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সময়ে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম‑৮ আসনের সিপিবি প্রার্থী মো. সেহাব উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও আজ বাতিল করা হয়েছে। সেহাব উদ্দিনের দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া স্বাক্ষরের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গিয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ চৌধুরীর ক্ষেত্রে, তিনি মোট ভোটারের এক শতাংশেরও কম স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন, যা মনোনয়নের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘাটতি তার মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাতিলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উভয় প্রার্থীকে তাদের আপিল রেজিস্ট্রেশন ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াত‑ইসলামীর মো. আবু নাসের এবং এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো নথি ঘাটতি বা স্বাক্ষরের গরমিল পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকল প্রার্থীর আপিল ও পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের যথাযথ যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধি প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রাখা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। তবে একই সঙ্গে প্রার্থীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় নথি জমা না করার ফলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রভাব পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম‑৯ ও চট্টগ্রাম‑৮ আসনের ভোটারদের জন্য এখন নির্বাচনী তালিকায় পরিবর্তন দেখা যাবে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পরিবর্তে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা ভোটের জন্য তালিকাভুক্ত থাকবে। ভোটারদেরকে সংশোধিত তালিকা অনুসরণ করে ভোট দিতে বলা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের শেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা আগামী সপ্তাহে আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাতিল হওয়া মনোনয়নের পুনর্বিবেচনা ও বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত করা হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments