নামিবিয়া ক্রিকেট বোর্ড শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের একটি স্কোয়াড চূড়ান্ত করে ঘোষণা করেছে। দলটি টুর্নামেন্টের চতুর্থবার অংশগ্রহণ করবে এবং গ্রুপ এ-তে ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব ৩০ বছর বয়সী গেরহার্ড এরাসমাসের ওপর রাখা হয়েছে, যিনি পূর্বের তিনটি বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নবীনদের মিশ্রণ দেখা যাবে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজের স্কোয়াড থেকে দশজনকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর বাকি পাঁচজন নতুন মুখ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখবে। নতুন খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে লরেন স্টিনক্যাম্প, জেসি বেল্ট, উইলেম মাইবার্গ এবং ম্যাক্স হেইঙ্গো।
উইলেম মাইবার্গের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত। তিনি আগস্টে কানাডার বিরুদ্ধে একক ওয়ানডে ম্যাচে ডেবিউ করেন, তবে সেই খেলায় কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেননি। তাছাড়া, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র একবার অংশগ্রহণের রেকর্ড তার রয়েছে, এবং তিনি ২৫ বছর বয়সী। এই সীমিত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও মাইবার্গকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তার ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক।
ম্যাক্স হেইঙ্গোও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন। তিনি অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নেন এবং দুইটি উইকেট নেন। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দশটি ম্যাচে মোট দশটি উইকেটের রেকর্ড তার আছে। হেইঙ্গোর এই পারফরম্যান্স তাকে দলের বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প করে তুলেছে।
মাঝের ক্রমে ব্যাটসম্যান জেসি বেল্টের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি এখন পর্যন্ত ছয়টি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। ২২ বছর বয়সের বেল্টের ব্যাটিং স্টাইল দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার পূর্বের পারফরম্যান্সে তিনি মাঝারি গতি এবং সঠিক শটের সমন্বয় দেখিয়েছেন।
লরেন স্টিনক্যাম্পের টি-টোয়েন্টি রেকর্ডে সাতটি ম্যাচে ১৩৭ রান রয়েছে, যার মধ্যে একবারের ফিফটি রয়েছে। তিনি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে দলকে দ্রুত শুরুর গতি দিতে সক্ষম। তার একক ফিফটি স্কোরটি দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
নামিবিয়ার গ্রুপ এ-তে প্রথম ম্যাচটি ১০ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচটি দলের টুর্নামেন্ট যাত্রার সূচনা চিহ্নিত করবে এবং স্কোয়াডের প্রস্তুতি ও কৌশল পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলটি ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিবেচিত।
স্কোয়াডের পূর্ণ তালিকা নিম্নরূপ: গেরহার্ড এরাসমাস (ক্যাপ্টেন), জ্যান গ্রিন, বার্নার্ড শোল্টজ, রুবেন ট্রাম্পেলম্যান, জেজে স্মিথ, ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক, লরেন স্টিনক্যাম্প, মালান ক্রুগার, নিকোল লফটি-ইটন, জ্যাক ব্রাসেল, বেন শিকঙ্গো, জেসি বেল্ট, উইলেম মাইবার্গ এবং ম্যাক্স হেইঙ্গো। এই সংমিশ্রণটি নামিবিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে গঠন করবে।



