20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুলশানে নারীকে বিদ্যুৎ পিলারের সঙ্গে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হেনস্তা, পাঁচজনকে হেফাজতে

গুলশানে নারীকে বিদ্যুৎ পিলারের সঙ্গে বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হেনস্তা, পাঁচজনকে হেফাজতে

গুলশান, ঢাকা‑এর একটি রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক নারীকে বিদ্যুৎ পিলারের সঙ্গে বেঁধে তার গায়ে পানি ঢেলে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানার পর গুলশান থানা পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।

থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেয়। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত মাদরাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে হেনস্তা, শারীরিক নির্যাতন এবং অবৈধ গ্রেপ্তার ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরাধীরা নারীর গায়ে একটি রশি দিয়ে বিদ্যুৎ পিলারের চারপাশে বাঁধে এবং পরে পানির পাত্র থেকে গরম পানি ঢেলে শারীরিক কষ্ট দেয়। পানির তাপমাত্রা ও পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, শিকারীর শারীরিক অবস্থা তীব্র কষ্টের শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মাদরাসা মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী কর্তৃপক্ষের মতে, শিকারের অভিযোগে তিনি শুক্রবার সকালে মাদরাসা ভবনে চুরি করতে গিয়েছিলেন। চুরি করার সময় তাকে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা আটক করে। এই ঘটনার পর থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের আওতায় রাখে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুসারে, শিকারের চুরি সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি তাকে দেহ ব্যবসায়ী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীরা শিকারের গায়ে পানি ঢেলে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে জানা যায়।

রাকিবুল হাসান, গুলশান থানা পুলিশ অফিসার, জানান, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে তারা শিকারের চুরি এবং দেহ ব্যবসা সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালে সব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের মতে, হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে হেফাজতে থাকা পাঁচজনকে ডিফেন্সের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, হেনস্তা অপরাধ ধারা ৩৯৯ (শারীরিক নির্যাতন) এবং ধারা ৩৯৮ (অবৈধ গ্রেপ্তার) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের সুযোগ পাবে।

শিকারের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, তিনি জরুরি সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। শিকারের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গুলশান থানা পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ভিডিও রেকর্ড, সাক্ষী বিবৃতি এবং স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সন্দেহভাজন সনাক্ত করা হলে তাদেরও হেফাজতে নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর গুলশান এলাকার বাসিন্দা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে মামলার শোনানিরিখ নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে সমাধান করা হবে এবং শিকারের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

এই ঘটনা গুলশান এলাকায় নারীর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপরাধ রোধে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদারকি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments