ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের পেশা ও আর্থিক তথ্যসহ হলফনামার শর্তাবলী আজ প্রকাশিত হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে সানজিদা ইসলাম, যিনি একমাত্র নারী প্রার্থী, নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি ঢাকা‑১৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়কও বটে। অন্যদিকে ঢাকা‑১৩ আসনের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা চালান এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যানের পদও ধারণ করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তিনি এই প্রতীকটি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করবেন।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দশটি তথ্যের হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে প্রার্থীর পেশা, আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, এবং প্রার্থী ও তার নির্ভরশীলদের সম্পদ বিবরণী অন্তর্ভুক্ত। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থিতা বাতিলের অধিকার থাকে। তদুপরি, নির্বাচনের পরেও যদি মিথ্যা তথ্য প্রকাশ পায়, তবে সংসদীয় মেয়াদ চলাকালীন সদস্যপদ বাতিলের সম্ভাবনা থাকে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এই হলফনামা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত আসনের প্রার্থীদের নাম নিম্নরূপ: ঢাকা‑১-খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা‑২-আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা‑৩-গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা‑৪-তানভীর আহমেদ, ঢাকা‑৫-নবী উল্লা, ঢাকা‑৬-ইশরাক হোসাইন, ঢাকা‑৭-হামিদুর রহমান, ঢাকা‑৮-মির্জা আব্বাস, ঢাকা‑৯-হাবিবুর রশীদ, ঢাকা‑১০-শেখ রবিউল আলম, ঢাকা‑১১-এম এ কাইয়ুম, ঢাকা‑১২-সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী, নির্বাচনী সমঝোতার ফলে আসন ছেড়ে দিয়েছেন), ঢাকা‑১৩-ববি হাজ্জাজ, ঢাকা‑১৪-সানজিদা ইসলাম, ঢাকা‑১৫-শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা‑১৬-আমিনুল হক, ঢাকা‑১৭-তারেক রহমান, ঢাকা‑১৮-এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা‑১৯-মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা‑২০-তমিজ উদ্দিন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে, ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে এম এ কাইয়ুম সর্বোচ্চ ডিগ্রি ধারণ করেন; তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। স্বশিক্ষিত প্রার্থী হিসেবে নবী উল্লা উল্লেখযোগ্য। শফিকুল ইসলাম খান অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষিত, যা তালিকায় একমাত্র নিম্নতম স্তর। ছয়জন প্রার্থী মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন, আর একজন মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস। উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ডিগ্রি তিনজনের আছে, বাকিরা স্নাতক ডিগ্রি ধারী।
এই তথ্যগুলো নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীদের পেশা, আর্থিক অবস্থা ও শিক্ষাগত পটভূমি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয় এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। হলফনামা অনুযায়ী তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এবং প্রার্থীদের সত্যিকারের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রভাব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



