কিশোরগঞ্জের রামনন্দ হাইস্কুলের এক শিক্ষার্থী, যখন একজন শিক্ষক তাকে ‘তুই আর্টিস্ট’ বলে সম্বোধন করেন, তখন তার ভবিষ্যৎ দিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। সেই কথাটি তাকে শিল্পের পথে অগ্রসর হতে উদ্বুদ্ধ করে, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকা সরকারের গভার্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস‑এ (বর্তমানে ঢাকা চারুকলা) ভর্তি হন।
শিক্ষা জীবনে তিনি তেমন উজ্জ্বল না ছিলেন; মাধ্যমিক পরীক্ষা তিনবারে পাস করতে হয়েছিল। এই ফলাফল সত্ত্বেও, শিক্ষকের এক কথাই তার আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল, যা তাকে শিল্পের প্রতি নিবেদন করতে প্রেরণা দিল।
শিক্ষকের উত্সাহের পর, তিনি ঢাকা শহরে গিয়ে ফাইন আর্টসের সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর আরেকটি বিকল্প তার সামনে দেখা দিল না; তার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল—শিল্পই তার প্রধান পথ।
সেই সময়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আবদুল বাসেত, মুস্তাফা মনোয়ার এবং মোহাম্মদ কিবরিয়ার নাম উল্লেখযোগ্য। তারা তার শিল্পচেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, বিভিন্ন শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল শেয়ার করে।
ছাত্রাবস্থায় তিনি প্রতিদিন চারটি জলরঙের কাজ সম্পন্ন করতেন। রায়েরবাজারে সাইকেলে গিয়ে উপকরণ সংগ্রহ করা, রাতের বেলা কুপি জ্বালিয়ে আঁকা—এই অভ্যাসগুলো তার জন্য এক ধরনের নেশার মতো হয়ে ওঠে। প্রতিটি কাজের সঙ্গে তার সৃজনশীলতা আরও গভীরতর হয়।
তার জন্য শিল্প কেবল কোনো পেশা নয়, বরং জীবনের স্বাভাবিক রীতি। তিনি এটিকে জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেন, যা তাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে।
শিক্ষা ও শিল্পের সংযোগে এই গল্পটি দেখায় যে, এক মুহূর্তের সঠিক উত্সাহ একজন শিক্ষার্থীর পথচলা বদলে দিতে পারে। যদি আপনি আপনার চারপাশের কোনো তরুণের মধ্যে সৃজনশীল প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তবে তাকে স্বীকৃতি ও সমর্থন দিন; ছোটখাটো উৎসাহই বড় স্বপ্নের ভিত্তি হতে পারে।



